ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র দেড় সপ্তাহের মাথায় আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও যুদ্ধের ধাক্কায় বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়ালে এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং জনমুখী কর্মসূচিগুলো সচল রাখাই এখন সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় করণীয় নির্ধারণ করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১০টায় তার কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। এর আগে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী রয়েছেন। কমিটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি বিশ্লেষণে কাজ শুরু করেছে।
Manual6 Ad Code
স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই যুদ্ধকে ‘অন্যায় ও আগ্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের যুদ্ধ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করে, যা পরোক্ষভাবে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা হয়ে চাপে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীল হওয়ায় পরিবহন ও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
Manual4 Ad Code
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর প্রথম এক মাসেই তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার বেশ কিছু সাড়াজাগানো কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খনন প্রকল্প, ইমাম-পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা এবং কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ ও দরিদ্রদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ অন্যতম। তবে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি পেলে এসব কল্যাণমুখী প্রকল্পের অর্থায়নে টান পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
সংকট সামাল দিতে সরকার ইতিমধ্যে কিছু তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পট মার্কেট থেকে চার কার্গো এলএনজি কেনার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বেসরকারি খাতে জ্বালানি আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বলা হয়েছে। এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে জ্বালানি সাশ্রয়ে কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যার মধ্যে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা এবং তেল ক্রয়ে সীমা নির্ধারণের মতো বিষয়গুলো রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, সরকার সংকট মোকাবিলায় বহুমাত্রিক উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, বিগত সরকারের আমলের অপচয় ও দুর্নীতি বন্ধ করে সামাজিক সুরক্ষা খাতের সুবিধা আরও বাড়ানো হবে। আগামী বাজেটে করের হার না বাড়িয়ে কর ফাঁকি রোধের মাধ্যমে জনকল্যাণমুখী অর্থনীতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক এই যুদ্ধের অভিঘাত সামলে নতুন সরকার তাদের উন্নয়ন এজেন্ডা কতটা সফলভাবে এগিয়ে নিতে পারে।