পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মন্ত্রী মহসিন রেজা নাকভি দুই দিনের এক গুরুত্বপূর্ণ সফরে শুক্রবার (৮ মে) ঢাকা আসছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটিই পাকিস্তান সরকারের কোনো মন্ত্রীর প্রথম বাংলাদেশ সফর।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যুতে যোগাযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন এবং দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে।
Manual2 Ad Code
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মহসিন নাকভি আজ ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে। এই সফরে তার সঙ্গী হিসেবে স্ত্রীও আসছেন এবং তাদের স্বাগত জানাতে সব ধরনের আনুষ্ঠানিক প্রটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ সরকার।
৫ মে পাকিস্তান হাইকমিশনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠির প্রেক্ষিতে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সফরকারী দম্পতিকে স্বাগত জানাতে উপহার হিসেবে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় তাঁতের শাড়ি ও পাঞ্জাবি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
Manual5 Ad Code
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকের মূল আকর্ষণ হিসেবে মাদক চোরাচালান রোধ এবং সন্ত্রাস দমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া আন্তর্দেশীয় অপরাধ দমন, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাবে।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর একই হোটেলে প্রতিনিধিদলসহ এক মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন তারা। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা মহসিন নাকভি বিকেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকে বসবেন, যেখানে দুই দেশের ক্রিকেটের উন্নয়ন ও পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
দুই দিনের এই সংক্ষিপ্ত সফর শেষে আগামীকাল ৯ মে রাত ৮টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফিরতি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করবেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরালো হবে। বিশেষ করে মাদক পাচার রোধে নতুন এই চুক্তি বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।