আজ সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় হরমুজ ছাড়লো মার্কিন ডেস্ট্রয়ার

editor
প্রকাশিত মে ৮, ২০২৬, ০১:০৮ অপরাহ্ণ
ইরানের মুহুর্মুহু হামলায় হরমুজ ছাড়লো মার্কিন ডেস্ট্রয়ার

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual6 Ad Code

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের এক যৌথ সামরিক অভিযান চালিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ারকে পিছু হঠতে বাধ্য করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সন্ধ্যায় পরিচালিত এই অভিযানে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

ইরানি কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার প্রতিবাদে এবং বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে প্রণালিতে যুদ্ধজাহাজ নিয়ে অগ্রসর হওয়ায় এই পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা এই নৌপথ থেকে মার্কিন জাহাজগুলো দ্রুত প্রস্থান করতে বাধ্য হয়।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডার জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি উসকানিমূলক কাজের প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অভিযান শুরু করা হয়। প্রথমত, মার্কিন বাহিনী যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে জাস্ক বন্দরের কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালায়।

দ্বিতীয়ত, তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে থাকে। এই দুই ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইরান অত্যন্ত নিখুঁত এবং বিস্তৃত এক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে জাহাজ বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং শক্তিশালী ধ্বংসাত্মক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Manual5 Ad Code

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরানি বাহিনী সরাসরি শত্রু যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিস্ফোরকবাহী অস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের গোয়েন্দা পর্যবেক্ষণে মার্কিন সামরিক সম্পদগুলোর ‘মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির’ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইরানি কমান্ডারের দাবি অনুযায়ী, ভয়াবহ এবং নিখুঁত আগুনের মুখে টিকতে না পেরে তিনটি আক্রমণকারী মার্কিন জাহাজ অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ইরান আবারও প্রমাণ করেছে, তাদের পানিসীমায় যেকোনো ধরনের অনধিকার প্রবেশ বা আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে তারা দ্বিধাবোধ করবে না।

খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাগারি এই ঘটনাবলিকে মার্কিন ‘সামুদ্রিক দস্যুতা’ হিসেবে অভিহিত করে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বোঝা উচিত, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান শক্তিশালী এবং চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের এই সফল সামরিক মহড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাবের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

Manual3 Ad Code

সূত্র: প্রেস টিভি

Manual4 Ad Code