শুক্রবার শহরে শাহ, হবু বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বেছে নেবেন মুখ্যমন্ত্রীকে! শুভেন্দু না অন্য কেউ? কৌতূহলী বিজেপি
শুক্রবার শহরে শাহ, হবু বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠকে বেছে নেবেন মুখ্যমন্ত্রীকে! শুভেন্দু না অন্য কেউ? কৌতূহলী বিজেপি
editor
প্রকাশিত মে ৮, ২০২৬, ০২:২৬ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
আনন্দবাজার ডট.কম
শনিবার (০৯ মে) সকালে ব্রিগেডে বিজেপি সরকার শপথ নেবে। তার আগে বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার কাজে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে শাহকে। ২০৭ জন জয়ী প্রার্থীর সঙ্গে তিনি বৈঠক করবেন।
শুক্রবার (০৮ মে) সকালে কলকাতায় চলে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই দিনই বিজেপির জয়ী প্রার্থী তথা হবু বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করবেন তিনি। সূত্রের খবর, সেখানেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম স্থির হয়ে যাবে। তার পর শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ নেবে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার। কাকে মুখ্যমন্ত্রী করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপির অন্দরেও তা নিয়ে বিস্তর জল্পনা রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করতে পারে পদ্মশিবির।
Manual4 Ad Code
একাংশের মতে, মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুকেই সবচেয়ে জোরালো দাবিদার বলে মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তিনি পর পর দু’বার নির্বাচনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে পরাস্ত করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভোটের লড়াইয়ে শুভেন্দু প্রথম নেমেছিলেন ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে। ১৯৫৬ ভোটে সে বার মমতাকে হারিয়েছিলেন তিনি। নিজের ঘরের মাঠে মমতাকে পরাস্ত করার পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতার পাড়ায় তাঁকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন শুভেন্দু। তাতেও সফল হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, ভবানীপুরে তাঁর জয়ের আগের চেয়েও ব্যবধান বেড়েছে। ১৫ হাজারের বেশি ভোটে এ বার মমতাকে হারিয়েছেন তিনি।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর এমন ‘সম্মুখসমর’ বেশ বিরল। আগে এমন কেউ দেখেছেন বলে মনে করতে পারছেন না। তা ছাড়া, মুখ্যমন্ত্রীকে ভোটে হারিয়ে দিচ্ছেন বিরোধী দলনেতা স্বয়ং— এমনটাও বড় একটা দেখা যায়নি। এ বছর শুভেন্দুকে দু’টি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। নন্দীগ্রামে তৃণমূলের পবিত্র করকে তিনি পরাস্ত করেছেন প্রায় ১০ হাজার ভোটে। ফলে বিজেপির অন্দরেই কেউ কেউ বলতে শুরু করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী পদের যোগ্য দাবিদার শুভেন্দু। অন্য কাউকে এই দায়িত্ব দেওয়া সঙ্গত হবে না।
Manual2 Ad Code
শনিবার সকালে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজেপি সরকার শপথ নেবে। তার আগে বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার কাজে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে শাহকে। শুক্রবার তিনি কলকাতায় আসছেন। থাকবেন নিউ টাউনের হোটেলে। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত নিউ টাউনের হোটেলেই থাকবেন তিনি। তার পর যাবেন বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে। সেখানে বিকেল ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত ২০৭ জন হবু বিধায়কের সঙ্গে শাহ বৈঠক করবেন। আলোচনার মাধ্যমে পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়া হবে সেই বৈঠকে।
বিধানসভায় বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা বেছে নেওয়ার কাজে শাহের সহকারী পর্যবেক্ষক হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পড়শি রাজ্য ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝিকে। যে কোনও রাজ্যে নির্বাচনের পরে পরিষদীয় দলনেতা বাছার সময় সেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের পাঠান বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁরা দলের নবনির্বাচিত প্রার্থী নিয়ে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই পরিষদীয় দলনেতার নাম ঘোষণা হয়ে যায়। এটি বিজেপির পরিষদীয় রীতি। এ বার বিধানসভার অন্দরে বিজেপির ভূমিকা বদলাতে চলেছে। বিরোধীর বদলে বিজেপি এখন বিধানসভায় সরকারপক্ষের ভূমিকায় থাকবে। সে ক্ষেত্রে নতুন মুখ্যমন্ত্রীই হবেন বিধানসভায় শাসকদলের পরিষদীয় দলনেতা। অর্থাৎ, এ বারের বৈঠকে শুধু পরিষদীয় দলনেতা নন, একই সঙ্গে স্থির হয়ে যাবে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নামও।
Manual7 Ad Code
সূত্রের খবর, শাহের বৈঠকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যাঁর নাম স্থির হবে, তিনিই সন্ধ্যায় হবু বিধায়কদের নিয়ে রাজভবনে যাবেন এবং রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের আর্জি জানাবেন। সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শনিবার ব্রিগেডে শপথ নেবে নতুন সরকার।