আজ শুক্রবার, ১০ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে বাদ দিয়েও ভারত চলতে পারবে: ফজলুর রহমান

editor
প্রকাশিত মে ১৬, ২০২৬, ১০:৫০ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশকে বাদ দিয়েও ভারত চলতে পারবে: ফজলুর রহমান

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশকে বাদ দিয়েও ভারত চলতে পারবে বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।

যুগান্তরকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আমরা শুধু আছি ভারতকে নিয়ে আর ভারত আছে আমাদের নিয়ে। বাংলাদেশের চারদিকে কিন্তু ভারত আছে। একটু বুঝে শুনে চললে খুব খারাপ হইতো না। তাদেরকে আমরা প্রভু মানবো না আবার আমরা মনিবও মানবো না। প্রয়োজনটা কিন্তু দুই দেশেরই সমান।

ফজলুর রহমান বলেন, আমরা কিন্তু হাজার হাজার বছর ধরে দুই বাংলায় এক ছিলাম। সেই বাংলা কেন ভাগ হইলো? কারা ভাগ করল? হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হয়ে গেল বাংলা। বঙ্গ, কলিঙ্গ, মগধ কত রূপে ডাকছি এই বাংলাকে। কোনো সময় রাজধানী ছিল গৌড়, কোনো সময় ছিল পান্ডুয়া, কোনো সময় ছিল সোনারগাঁও, সপ্তগ্রাম, কোনো সময় ছিল বিক্রমপুর। এরপরে আসলো ঢাকা, সেখান থেকে গেল মুর্শিদাবাদ, মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা। কলকাতা হয়ে উঠলো সারা ভারতবর্ষের রাজধানী ১০০ বছর যাবত।

বিএনপির এ সংসদ সদস্য বলেন, এগুলো চিন্তা করার মতো না, তখন কিন্তু বাঙালিরাই সারা ভারতবর্ষকে শাসন করছে। যে কারণে গোখলে বলেছিল যে, বাংলা আজকে যা ভাবে, বাকি ভারতবর্ষ তার একদিন পরে তা চিন্তা করে।

Manual2 Ad Code

ফজলুর রহমান বলেন, সেই বাংলা কেন ভাগ হইলো? কারা ধর্মের ভিত্তিতে বাংলাকে ভাগ করল? সেইটা ভাগ করলো গান্ধী আর জিন্নাহ। দুইজনের বাড়ি হলো গুজরাট। সেই গুজরাটের জিন্নাহ এবং গান্ধী এমনিতে শত্রু ছিল। কিন্তু বাংলাকে ভাগ করার জন্য তারা একমত ছিল। বাংলা ভাগ হয়ে গেল হিন্দু মুসলমান সাম্প্রদায়িক ধর্মের ভিত্তিতে।

Manual2 Ad Code

এই বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, এরপরে বাংলায় ছিল ৩১% হিন্দু। গত ৫০ বছরে এখান থেকে ২২% হিন্দু চলে গেল। মানে প্রায় তিন চতুর্থাংশ হিন্দু চলে গেল কলকাতায় বা পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়ে বা ত্রিপুরায়। সেখানে গিয়ে উদ্বাস্তু হয়ে গেল তারা। কিন্তু ওখান থেকে এই হারে মুসলমান আসলো না। যে কারণে আমাদের এখানে ৯ পারসেন্ট হিন্দু এখন, ওদের এখানে মুসলিম ৩১%, মেদিনীপুর, মুর্শিদাবাদ, মালদার মুসলমান কিন্তু খুব আসলো না।

তিনি বলেন, মোটামুটি ভালোই চলছিল। ৬৫ সালের যুদ্ধের পর থেকে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক যেমনই হোক, ৭১ সালের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আবার আমরা একটা এক্সিসে এসে দাঁড়ালাম। কিন্তু যুদ্ধের পরে অনবরত ভারত বিরোধী প্রচারণা করল একটা শক্তি। ভারত এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে প্রচারণা একটা শক্তি এমনভাবে করে গেছে যেটার কোনো তুলনা নাই। তারাই এ দেশের আলবদর-রাজাকার ছিল, তারাই স্বাধীনতাবিরোধী ছিল। ভারত বিরোধিতা করতে গিয়ে হিন্দু ধর্ম বিরোধিতা করা একটা সাংঘাতিক ধরনের ব্যাপার ছিল।

ফজলুর রহমান বলেন, এইদিক থেকে কলকাতা কেন্দ্রিক যে বাংলা এরা অনেকটা সহনশীল, ধৈর্যশীল ছিল। কিন্তু ৫ আগস্টের পরে তারা দেখছে যে ওই দেশটা তো জঙ্গিবাদী হয়ে যাচ্ছে। ওই দেশের মানুষ তো আমার লোককে ভালুকাতে গাছে তুলে আগুন দিয়ে মেরে ফেলে হিন্দু হওয়ার কারণে। তারা যদি হিন্দু মেরে ফেলতে পারে, আমি কেন এখানে মুসলমান মারবো না। প্রতিটা অ্যাকশনের বিপরীত রিএকশন আছে কথাটা বুঝতে হবে।

তিনি বলেন, আপনি যদি দিল্লি না ঢাকা প্রতিদিন একই স্লোগান দেন, এমনকি পার্লামেন্টে পর্যন্ত, এটা তারা (কলকাতার মানুষ) শুনে যদি স্লোগান দেয়, ঢাকা না কলকাতা- কলকাতা কলকাতা। আপনি যখন একজনকে শত্রু বলেন, সেও একই উল্টা কাজটা করবে।

ফজলুর রহমান বলেন, সাম্প্রদায়িকতাটা একটা রোগ, করোনার মতো। এটার কাছে যাওয়া যায় না, এটা ছোঁয়াচে রোগ। এই সাম্প্রদায়িকতা যখন, যেখানেই শুরু হইছে ওখান থেকে ছড়িয়ে গেছে। বাংলাদেশে যদি সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ হয় ভারতেও হবে। ওরা (বাংলাদেশ) এরকম করে আমরা কি ছেড়ে দেব নাকি? জিনিসটা এরকম হয়ে গেছে। এই মনুষ্যত্ব, বিবেক, গণতন্ত্র এটা ভারতবর্ষ, পাকিস্তান, আমরা যারা দক্ষিণ এশিয়ার মানুষ একমাত্র তিনটা দেশকে আমি খুব সভ্য মনে করি।

তিনি বলেন, শ্রীলংকায় আন্দোলনের পরে এখন সুন্দরভাবে আবার দাঁড়িয়ে গেছে। আজকে ১৮ বছর যাবৎ অস্থিরতা চলছে নেপালে গণতন্ত্র নিয়ে, অর্থনীতি নিয়ে কোনো অস্থিরতা নাই। গণতন্ত্র নিয়ে আন্দোলনের পরে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে, সরকার চালাচ্ছে। ভুটান চলছে সুন্দরভাবে। কিন্তু গণ্ডগোলের মাধ্যে শুধু আছি আমরা। আর আমরা শুধু আছি ভারত নিয়া আর ভারত আছে আমাদের নিয়ে। এটার জন্য দায়ী সব জায়গাতেই সাম্প্রদায়িক শক্তি। শুধু ভারত পশ্চিম বাংলাতে সাম্প্রদায়িকতা করতেছে আমরা খুব ভালো মানুষ এটা বলার কোনো অর্থ নেই।

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, এখানে যা হচ্ছে জঙ্গিবাদ সাম্প্রদায়িকতা কল্পনার বাইরে হচ্ছে, মুক্তিযুদ্ধের দেশে তো এরকম হওয়ার কথা ছিল না। আমাদের ব্যর্থতা আছে। এইটা ৭২ থেকে শুরু হইছে ভারত বিরোধিতাটা অনেক গোপনে আস্তে আস্তে, পরে সোচ্চার অবস্থায় শুরু হইছে, ভারত আমাদের সব নিয়ে গেল। আমি জানি না কতটুকু নিছে (নিয়েছে)।

Manual2 Ad Code

 

Manual5 Ad Code