যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনবে ভারত: রুবিও
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনবে ভারত: রুবিও
editor
প্রকাশিত মে ২৫, ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
আগামী পাঁচ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বমোট ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলার সমমূল্যের বিভিন্ন পণ্য কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত।
Manual6 Ad Code
রোববার (২৪ মে) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
Manual7 Ad Code
চার দেশীয় কৌশলগত জোট ‘কোয়াড’-এর শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিতে শনিবার ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে পৌঁছান তিনি। রুবিও জানান, ভারতের এই বিশাল বিনিয়োগ মূলত আমেরিকার জ্বালানি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষি খাতের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেবে।
অবশ্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল অঙ্কটি ভারতের একটি ব্যবসায়িক ইচ্ছার প্রতিফলন মাত্র, এটি কোনো বাধ্যতামূলক চুক্তি বা আইনি বাধ্যবাধকতা নয় বলে স্পষ্ট করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তিনি এর আগে সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, ‘আমাদের নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্য কিনতেই হবে—এমন কোনো শর্ত চুক্তিতে নেই। আমরা মূলত আমাদের চাহিদামতো নির্দিষ্ট কিছু সরঞ্জাম কেনার পরিকল্পনা করছি।’
Manual8 Ad Code
তিনি আরও যোগ করেন, পণ্য কেনা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে পণ্যের দাম, গুণগত মান এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর। প্রতি বছর ১০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কেনার যে বাধ্যবাধকতার কথা আলোচনা হচ্ছিল, তা-ও তিনি পুরোপুরি নাকচ করে দেন।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে নয়া দিল্লি ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি প্রাথমিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রথমে বিষয়টিকে ভারতের ‘প্রতিশ্রুতি’ হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দ্বিপক্ষীয় নথিতে শব্দগত পরিবর্তন এনে একে ‘প্রতিশ্রুতি’র বদলে ভারতের ‘আগ্রহ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
রোববার এক পোস্টে মার্কো রুবিও মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এবং অন্যান্য কূটনীতিকদের এই সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবে রূপ দেওয়ার নিরলস প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্ক নীতির কারণে সম্প্রতি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে যে কিছুটা অবনতি হয়েছিল, রুবিওর এই সফর মূলত সেই সম্পর্ককে পুনরায় স্থিতিশীল করার একটি বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ।
এর আগে ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝে রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় খনিজ তেল কেনার জেরে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক অতিরিক্ত কর আরোপ করেছিল ওয়াশিংটন, যার ফলে মোট মার্কিন শুল্কের হার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে গত ২ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে সমঝোতা হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক শুল্ক তুলে নেন। এর ফলে বর্তমানে আমেরিকায় ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্কের হার কমে ১৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
রোববার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দুই দেশ একটি চূড়ান্ত অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে আলোচনার প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিতে এবং দুই দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে একটি সুনির্দিষ্ট সমঝোতায় পৌঁছাতে শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল নয়া দিল্লি সফর করবে।
জয়শঙ্কর বলেন, ‘অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট এবং উভয় পক্ষের জন্য উপকারী একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুই দেশের চমৎকার অগ্রগতির প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই আমাদের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা এখানে সফরে আসতে পারবেন। এর আগে আমরা যুক্তরাষ্ট্রে একটি সফল ভারতীয় প্রতিনিধিদল পেয়েছিলাম এবং সেখানে অসাধারণ অগ্রগতি হয়েছে। আমার মনে হয়, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে এমন একটি বাণিজ্য চুক্তি হবে, যা দীর্ঘস্থায়ী, উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক এবং টেকসই হবে।’