রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মাত্র পাঁচ দিনের তদন্ত শেষে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
Manual3 Ad Code
ঢাকা মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন এই অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন এবং আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
রোববার (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। শুনানির পর মামলাটি বিচারের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে আজিজুর রহমান দুলু এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে মুসা কলিমুল্লাহ দায়িত্ব পালন করছেন।
Manual3 Ad Code
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পেশায় একজন অটোরিকশা মেকানিক। গত ২০ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, নিয়মিত মাদক সেবনের পর ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার শিশু রামিসাকে ডেকে সে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের সময় শিশুটি চিৎকার করলে সে তার মুখ চেপে ধরে কাপড় গুঁজে দেয়। শিশুটি জ্ঞান হারালে তাকে মৃত ভেবে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করে।
Manual6 Ad Code
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের সব ক্ষত ছিল শিশুটি বেঁচে থাকাকালীন সময়ের।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, সোহেলকে পালাতে সহায়তা করেছে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। শিশুটির পরিবার যখন রামিসাকে খুঁজছিল, তখন সোহেলের স্ত্রী ঘরের দরজা চেপে ধরে রেখে তাকে সময় করে দেয়। এই সুযোগে সোহেল জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায় এবং সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পরই তার স্ত্রী দরজা খুলে দেয়। আলামত নষ্ট করা ও আসামিকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে স্বপ্না খাতুনকেও মামলার আসামি করা হয়েছে। তথ্য সুএঃ ইত্তেফাক