দ্য ওয়ালে সাক্ষাৎকার; ভারতের পরামর্শে নয়, দেশে ফেরা নিয়ে হাসিনা বললেন, ‘কখন, কীভাবে ফিরব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার’
দ্য ওয়ালে সাক্ষাৎকার; ভারতের পরামর্শে নয়, দেশে ফেরা নিয়ে হাসিনা বললেন, ‘কখন, কীভাবে ফিরব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার’
editor
প্রকাশিত মে ২৭, ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual7 Ad Code
তিনি দ্রুতই দেশে ফিরে যাবেন বলে ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina, former Prime Minister of Bangladesh and President Bangladesh Awami League) । গত ১৭ মে আওয়ামী লিগের এক ভার্চুয়াল সভায় দলনেত্রী হাসিনা নাম না করে তারেক রহমানের সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার জন্য জেলখানা, ফাঁসির মঞ্চ রেডি করুন। আমার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিন। আমাকে নিয়ে যেতে বিমান পাঠান।’ (Prepare a prison and gallows for me. Return my passport. Send a plane to take me away, says Hasina)
প্রসঙ্গত, ২০২৪-এর ৫ অগস্ট বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর (Bangladesh Air Force) একটি বিমান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সুরক্ষা-সহ দিল্লির হিন্ডন বিমানবন্দরে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিল। গত ১৭ মে দলের সভায় হাসিনা দাবি করেছেন, তাঁকে ভারতে পাঠানোর কথা প্রথমে জানানো হয়নি। পরে নিরাপত্তা আধিকারিকেরা তাঁকে বলেন, দেশে থাকলে তাঁর জীবন বিপন্ন হতে পারে বলেই দিল্লিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
১৯৮১-র ১৭ মে। শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করলে স্বাগত জানাতে মানুষ বিমানের দরজায় পৌঁছে গিয়েছিল।
১৭ মে তারিখটি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লিগের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ৪৫ বছর আগে ওই দিনে ভারত থেকে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন ৩৩ বছর বয়সি হাসিনা। দিল্লিতে সাড়ে ছয় বছর ভারত সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা হাসিনাকে দেশে ফেরার আগেই তাঁর দল আওয়ামী লিগের সভাপতি ঘোষণা করেছিল। ৪৫ বছর পর আরও এক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের কারণে সেই ভারতে অবস্থানরত হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা ইদুল আজহার উৎসবের আবহেও আলোচনার ঢেউ তুলেছে বাংলাদেশে। আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী-সমর্থকেরা নেত্রীর ঘোষণায় উজ্জীবিত। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে চলছে সভা, পথসভা, মিছিল। সমাজমাধ্যমে ঢেউ উঠেছে শুভেচ্ছা বার্তার। বিরূপ মন্তব্য ধেয়ে আসছে সরকার ও আওয়ামী লিগ বিরোধ শিবির থেকে। পাশাপাশি জল্পনা শুরু হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তিনি কি ভারত সরকারের পরামর্শে নিলেন? বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের একাংশ এমনও দাবি করছে, ভারত সরকার আওয়ামী লিগ নেত্রীকে তৃতীয় কোনও দেশে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও ভারত সরকারের কোনও মহল থেকেই এমন খবরের সত্যতা মেলেনি।
দ্য ওয়াল-এর পক্ষ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের সভাপতিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল— আপনি সম্প্রতি বলেছেন মাথা উঁচু করে দ্রুত দেশে ফিরে যাবেন। আপনার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন এবং একটি মামলায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে আপনার মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকার যখন আপনাকে ফেরাতে বাংলাদেশ সরকারের আর্জি উপেক্ষা করছে তখন আপনার পক্ষে কীভাবে দেশে ফেরা সম্ভব?
জবাবে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রথমেই একটা কথা পরিষ্কার করা দরকার, যে ট্রাইব্যুনালে বিচারের নামে নাটক মঞ্চস্থ করা হয়েছে সেটি আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠন করা হয়েছিলো। ইউনুসের অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার বেআইনিভাবে চারবার অধ্যাদেশ জারি করে এই আইনে ৩৭টি পরিবর্তন এনে ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এই ট্রাইব্যুনালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধীদের বিচারক ও প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’
Manual5 Ad Code
দেশে ফিরলেও ধানমন্ডি ৩২-এর পৈতৃক বাড়িতে প্রবেশাধিকার পাননি হাসিনা। বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে আর্তনাদ বঙ্গবন্ধু কন্যার।
হাসিনা বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে সেটি কোনও বিচার নয়, এটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রতিশোধ মাত্র।’ প্রসঙ্গত, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের এই ট্রাইব্যুনালে বিচারের ব্যবস্থা করেছিলেন হাসিনা। অভিযুক্তদের ৭০ জনের মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন কারাবাসের সাজা হয়। সেই ট্রাইব্যুনালেই এখন বিচার চলছে হাসিনা-সহ আওয়ামী লিগ নেতাদের। সেই ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে হাসিনা বলেন, ‘এই ক্যাঙ্গারু ট্রায়ালে ন্যায় বিচারের কোনও মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। আমাকে আইনিভাবে মামলা মোকাবিলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। সাজানো সাক্ষ্য ও প্রমাণের মাধ্যমে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে বিচারের নামে প্রহসন করা হয়েছে। এটা করা হয়েছে আমাকে এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লিগকে রাজনৈতিক ময়দান থেকে দূরে রাখার জন্য। এই ষড়যন্ত্র ইতিমধ্যেই দেশবাসীর কাছে পরিষ্কার।’
হাসিনা আরও বলেন, ‘আমার বাবা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭১ সালের পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি রেখে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাঁর সেলের পাশে কবর খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি। আমি তাঁরই কন্যা। আমার রক্তেও সেই শিক্ষা আছে। আমি ইতিপূর্বে দু’বার মামলা, মৃত্যুর হুমকি, রাষ্ট্রযন্ত্রের জেল-জুলুম নির্যাতনের হুলিয়া মাথায় নিয়ে দেশে ফিরেছি। আমাকে ১৯ বার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনও কিছু আমাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। আমি মৃত্যুকে পরোয়া করি না। মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আমাকে থামানো যায় না।’
তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থান বা ভূমিকা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনার স্পষ্ট জবাব, ‘ভারত একটি গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তারা তাদের নিজস্ব নিয়ম এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের সিদ্ধান্ত একান্তই তাদের, এই বিষয়ে আমার বক্তব্য প্রদান সমীচীন হবে না। তবে আমি বলতে পারি আমি কখন, কীভাবে দেশে ফিরব সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার। আমার শক্তি বাংলাদেশের জনগণ এবং তাঁদের ভালোবাসা। জনগণের শক্তিতে বলীয়ান হয়েই আমি ফিরব। কোন অবৈধ রায় কিংবা কোন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আমাকে রুখতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেকোন ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত।’ (‘India is a democratic and sovereign state. They make decisions in accordance with their own laws and international norms. Their decisions are entirely their own; it would not be appropriate for me to offer any comments on this matter. However, I can state that the decision regarding when and how I return to my country is entirely mine. My strength lies in the people of Bangladesh and their love. Empowered by the strength of the people, I shall return. No unlawful verdict nor any political conspiracy can stop me. I am prepared to make any sacrifice for the people of Bangladesh.’)
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে প্রত্যাবর্তন আর প্রাণনাশের চেষ্টা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। ১৯৮১-র পর ২০০৭ সালেও তিনি বাংলাদেশের তৎকালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফতোয়া উপেক্ষা করে দেশে ফিরে গিয়েছিলেন। তখনকার সরকার তাঁর প্রত্যাবর্তন আটকাতে এমনকী বিমান সংস্থাগুলিকে পর্যন্ত হুলিয়া জারি করে বলেছিল শেখ হাসিনাকে যেন বিমানে উঠতে না দেওয়া হয়। সেবার আমেরিকা প্রবাসী ছেলের বাড়ি থেকে দেশে ফেরছিলেন তিনি। বাংলাদেশে ডিপস্টেটের অংশ হিসাবে সেনাবাহিনী, শীর্ষ আমলা এবং কতিপয় প্রভাবশালী সংবাদপত্রের মালিক-সম্পাদকদের পরিকল্পনা মতো বহুচর্চিত ‘মাইনাস-টু ফরমুলা’ কার্যকরের চেষ্টা হয়েছিল আওয়ামী লিগ নেত্রীর দেশে ফেরা আটকে দিতে। সেই প্রতিকূল পরিস্থিতি উপেক্ষা করে দেশে ফেরার পর কারাগারে যেতে হয়েছিল হাসিনাকে। সেবারের প্রত্যাবর্তন হয়েছিল, ২০০৭-এর ৭ মে। বিমান বন্দরে নেমে হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘আমাকে আসতে বাধা দিয়ে যে ভুল করেছে, আবার যদি এই রকম কিছু করতে যায় তবে আর একটা ভুলের মধ্যে পড়বে। এইটুকু বলতে পারি।’
তাঁর দল সেই প্রত্যাবর্তনকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার বলে বর্ণনা করে থাকে। এরপর আওয়ামী লিগের জন্য ছিল লম্বা সুদিন। পরের বছর অর্থাৎ ২০০৮-এর শেষ লগ্নে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় ফেরে আওয়ামী লিগ। সেই থেকে ২০২৪-এর অগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হাসিনা। এই প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় রেখে আওয়ামী লিগ নেত্রীকে ‘দ্য ওয়াল’-এর প্রশ্ন ছিল, আপনার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে প্রাণনাশের চেষ্টা এবং প্রত্যাবর্তন—দুটি শব্দই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে। আপনার আগের দুটি প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে আগামী প্রত্যাবর্তনের মৌলিক ফারাক কী হবে?
২০০৭-এর ৭ মে। ঢাকা বিমানবন্দর। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফতোয়া অগ্রাহ্য করে দেশে ফিরে আসেন শেখ হাসিনা।
Manual6 Ad Code
হাসিনা এই প্রশ্নের জবাবে বলেছেন, ‘আমাকে ১৯ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমার নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগ এবং জনগণের ভালোবাসা আমাকে বারবার শত্রুর বুলেট, গ্রেনেড ও বোমা হামলা থেকে রক্ষা করেছে। ৫ অগস্টেও আমাকে হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল। আমিই ছিলাম মূল টার্গেট। কেননা আমাকে হত্যা করতে পারলে দেশবিরোধী চক্র তাদের সকল ষড়যন্ত্র সহজে বাস্তবায়ন করতে পারতো। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা যেহেতু বাঁচিয়ে রেখেছেন, আমি আবারও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে সংকট থেকে উদ্ধার করব ও গণতন্ত্র পুনুরুদ্ধার করব।’
তাঁর প্রথম ও দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ‘১৯৮১ সালে সামরিক শাসকের (ক্ষমতায় তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পিতা তথা বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা সেনা শাসক জিয়াউর রহমান) রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমি প্রথমবার ফিরে এসেছিলাম। তখন আমি ছিলাম পরিবার পরিজনহারা এক নারী। কিন্তু আমাকে বরণ করে নিতে এসেছিল লক্ষ লক্ষ জনতা। আমাকে তারা তাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে বরণ করে নিয়েছিল। সে প্রত্যাবর্তন ছিল পিতার স্বপ্নপূরণের শপথ নেওয়া এক কন্যার প্রত্যাবর্তন। ২০০৭ সালে আমি ফিরে এসেছিলাম জরুরি অবস্থার সময়, সেনা সমর্থিত সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে। সেটিও ছিল সংগ্রামের প্রত্যাবর্তন।’ হাসিনার সেই প্রত্যাবর্তনের দিনটিতে ঢাকা শহর ও বিমানবন্দরে জনসমুদ্রের বর্ণনা আছে তাঁর স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার লেখা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ শীর্ষক বইয়ে। শেরে বাংলা নগরের সংবর্ধনা সভায় হাসিনা বলেছিলেন, ‘সব হারিয়ে আমি আপনাদের মাঝে এসেছি, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশিত পথে তার আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জাতির পিতার হত্যার প্রতিশোধ গ্রহণে আমি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।’
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বিশদে জানিয়েছেন তাঁর আসন্ন তৃতীয় প্রত্যাবর্তনের প্রেক্ষাপট, উদ্দেশ্য ও চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘এবারের প্রত্যাবর্তন সম্পূর্ণ ভিন্ন। এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন, চ্যালেঞ্জ ভিন্ন, দায়িত্বও ভিন্ন। ১৯৮১ সালে আমি ফিরেছিলাম একটি দলকে পুনর্গঠন করতে। ২০০৭ সালে ফিরেছিলাম গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে। এবার আমাকে ফিরতে হবে একটি দেশকে পুনর্গঠনের জন্য। কেননা অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকার এবং সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বিএনপি সরকার দেশের প্রতিটা সেক্টর ধ্বংস করেছে। প্রতি মূহুর্তে তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভুলন্ঠিত করছে, দেশের আবহমান সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে, জাতিকে বিভক্ত করছে।’
আমি বাংলাদেশকে যে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়েছিলাম, দলমত নির্বিশেষে সকলের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটিয়েছিলাম, বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে একটি সম্মাজনক অবস্থায় নিয়ে গিয়েছিলাম, ৫ অগস্ট পরবর্তী সময়ে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে আছে। দেশকে কূটনৈতিক ভাবে একঘরে করে ফেলা হচ্ছে। দেশকে রক্ষা করার জন্যই আমাকে ফিরতে হবে।
Manual5 Ad Code
তিনি বলেন, ‘এবারের আগের দুটি প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে এবারের প্রত্যাবর্তনের আরও এক ফারাক আছে। তাঁর কথায়, ‘১৯৮১ সালে আমি ফিরেছিলাম একজন শোকার্ত মেয়ে হিসেবে। কিন্তু এবার ফিরব একজন অভিজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। আমি জানি দেশের মানুষ কী চায়, আমি জানি কীভাবে তাদের সেই চাওয়া পূরণ করতে হয়। আমি জানি কীভাবে সীমিত সামর্থ নিয়েও একে পর এক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হয়, কীভাবে দেশকে জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে হয়, কীভাবে রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধা জনগণের দোড়গোড়ায় পৌঁছে দিতে হয়। অতএব দেশ পূনর্গঠনের লক্ষ্যে আমার এবারের প্রত্যাবর্তন পরবর্তী যাত্রা কঠিন হলেও জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আমি সেটা বাস্তবায়ন করতে পারব। দেশের জনগণও সেটি বিশ্বাস করে।’