আমেরিকার চুক্তি করতে হলে ইরানের ৫ শর্ত মানতে হবে: ইব্রাহিম আজিজি
আমেরিকার চুক্তি করতে হলে ইরানের ৫ শর্ত মানতে হবে: ইব্রাহিম আজিজি
editor
প্রকাশিত মে ২৭, ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে দেশটিকে অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য পাঁচটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ না হলে কোনো চুক্তি হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ আইনপ্রণেতা।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতি বিষয়ক কমিটি’র চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। তিনি ঠিক কোন কোন শর্তে ইরান আলোচনায় এগিয়ে যাবে, তার একটি রূপরেখা তুলে ধরেন।
Manual3 Ad Code
ইব্রাহিম আজিজি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি আগ্রাসনের দ্বিতীয় সপ্তাহে মার্কিনরা পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র মাত্র তিন দিনের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনা প্রক্রিয়া বেছে নিতে বাধ্য হয়। আজিজির মতে, এটি যুদ্ধক্ষেত্রে ইরানের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রমাণ।
আমেরিকার প্রতি ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি সবসময়ই অবিশ্বাস-ভিত্তিক উল্লেখ করে আজিজি বলেন, আলোচনা প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হলে মার্কিনদের অবশ্যই পাঁচটি বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে হবে।
ইরানের দেওয়া ৫টি শর্ত:
Manual8 Ad Code
১. লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং এই যুদ্ধের যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার গ্যারান্টি দেওয়া।
২. নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা।
৩. হরমুজ প্রণালির জন্য ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা ও কৌশলগত ব্যবস্থা মেনে নেওয়া।
৪. ইরানের ওপর আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা।
৫. বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের সমস্ত আর্থিক সম্পদ বা তহবিল অবমুক্ত করা।
Manual3 Ad Code
কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, যদি এই পাঁচটি আস্থা-উদ্বোধক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে আমরা একটি ৩০ থেকে ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে প্রবেশ করব এবং এরপর নিষেধাজ্ঞা ও অন্যান্য অবশিষ্ট বিষয়গুলোর বিস্তারিত নিয়ে আলোচনা হবে। অন্যথায়, এই চুক্তি কোনোভাবেই বাস্তবায়িত হবে না।
বর্তমানে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে। এই আলোচনা মূলত যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরানের দেওয়া একটি ১৪ দফার প্রস্তাবের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এর আগে গত সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনাটি মূলত সমস্ত ফ্রন্টে আগ্রাসন বন্ধের ওপর কেন্দ্র করে হচ্ছে। পরমাণু কর্মসূচি বা হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো এই আলোচনার এজেন্ডায় নেই। ইরানি শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মতে, চলমান এই যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় ইরানের পিছু হটার কোনো সুযোগ নেই।