আজ বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নির্বাচনে হারের পরই বড় বিপদে তৃণমূল? ভাঙছে দল? বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন ১৮ সাংসদ?

editor
প্রকাশিত মে ২৭, ২০২৬, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচনে হারের পরই বড় বিপদে তৃণমূল? ভাঙছে দল? বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন ১৮ সাংসদ?

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

যদিও দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা অস্বীকার করে বলেছেন যে, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে অনেক বিধায়ক উপস্থিত হতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হারের পর দলের বড় অংশ এখন নেতৃত্বের প্রতি অসন্তুষ্ট।

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের অভাবনীয় পরাজয়। রাজ্য়ের প্রাক্তন শাসকদলের অন্দরে নজিরবিহীন ভাঙনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন, লোকসভার এক ডজন বা তারও বেশি তৃণমূল সাংসদ খুব শীঘ্রই ভারতীয় জনতা পার্টিতে (BJP) যোগ দিতে পারেন। সম্ভাবনা ও জল্পনা বাড়ছে প্রবল। সরাসরি যোগদান না করলেও বাইরে থেকে সমর্থন জানাতে পারেন অনেক তৃণমূল নেতা-মন্ত্রী। যদিও এই বিষয়ে কোনও দলের পক্ষ থেকেই এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে ভিতরের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে।

কতজন সাংসদ দল ছাড়তে পারেন?

সর্বভারতীয় সমবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, তৃণমূলের অন্তত ১২ জন লোকসভা সাংসদ ইতোমধ্যেই বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বা তাদের সমর্থন করার ব্যাপারে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলেছেন। এর বাইরেও আরও ৫ থেকে ৬ জন সাংসদ দল বদলের তালিকায় রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। ফলে সব মিলিয়ে দলত্যাগী বা বিদ্রোহী সাংসদের সংখ্যা ১৮ থেকে ২০তে গিয়ে পৌঁছতে পারে।

Manual8 Ad Code

বিশ্লেষকদের মতে, দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law) এড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যার হিসাব-নিকেশ চালাচ্ছেন এই সাংসদেরা বলেই গুঞ্জন চলছে। বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূলের মোট ২৯ জন সাংসদ রয়েছেন। আইন অনুযায়ী, যদি দুই-তৃতীয়াংশ (অর্থাৎ অন্তত ২০ জন) সাংসদ দল থেকে আলাদা হয়ে যান, তবে তাঁদের সাংসদ পদ খারিজ হবে না।

Manual2 Ad Code

সামনের বাদল অধিবেশন (Monsoon Session)-এর মধ্যেই এই দলবদলের বিষয়টি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, দলবদলের এই তালিকায় থাকা বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেত্রী ও সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল

নির্বাচনে পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আলোচনা আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হল, দলের বিপুল সংখ্যক বিধায়ক সেই মিটিং থেকে দূরত্ব বজায় রাখেন। জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে রাজপথের রাজনীতিতে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া সত্ত্বেও দলের ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে খুব কম সংখ্যক বিধায়কই ওই দিন কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়েছিলেন।

যদিও দলের প্রবীণ নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কথা অস্বীকার করে বলেছেন যে, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং অন্যান্য ব্যস্ততার কারণে অনেক বিধায়ক উপস্থিত হতে পারেননি। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হারের পর দলের বড় অংশ এখন নেতৃত্বের প্রতি অসন্তুষ্ট।

Manual6 Ad Code

পৌরসভা স্তরেও ভাঙনের পালা শুরু

সাংসদ ও বিধায়কদের অসন্তোষের পাশাপাশি তৃণমূলের নিম্নস্তরেও ভাঙন শুরু হয়ে গেছে। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির জয়ের পর ডায়মন্ড হারবার পৌরসভার ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর একযোগে পদত্যাগ করেছেন। উল্লেখ্য, এই পৌরসভায় মোট ১৬ জন কাউন্সিলরের সবাই তৃণমূলের ছিলেন এবং বিরোধী দলের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। কিন্তু সোমবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে অর্ধেক কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় স্থানীয় স্তরে দল বড় ধাক্কা খেয়েছে।

Manual8 Ad Code

সামগ্রিকভাবে, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর নিজেদের আবার গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও, সাংসদ ও বিধায়কদের এই উদাসীনতা এবং বিজেপিতে যোগদানের জোরালো জল্পনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের অস্তিত্বকে এক বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

বিরোধী ও রাজনৈতিক মহলের মতে, অদূর ভবিষ্যতে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব সংকট হতে পারে।সুএঃ জি নিউজ