ভারতে শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর ট্রাম্প বললেন, ‘মোদি আমার ভালো বন্ধু’
ভারতে শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর ট্রাম্প বললেন, ‘মোদি আমার ভালো বন্ধু’
editor
প্রকাশিত জুন ৫, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual2 Ad Code
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিজের এক ‘ভালো বন্ধু’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি খুব শিগগিরই একটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
Manual7 Ad Code
বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শ্রম আদায় বা বাধ্যতামূলক শ্রম বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগে ভারতসহ বিশ্বের ৫৪টি দেশের পণ্যের ওপর আমেরিকার অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার ঘোষণার ঠিক কয়েক দিন পরই ট্রাম্পের এই ইতিবাচক আশ্বাস সামনে এল।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনাকালে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, আমরা অবশ্যই একটি চুক্তিতে পৌঁছাব কারণ আমি আপনাদের প্রধানমন্ত্রীকে অনেক পছন্দ করি এবং তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার।
হোয়াইট হাউসে বাণিজ্য চুক্তি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প অভিযোগ করে বলেন, ভারত দীর্ঘ বছর ধরে আমেরিকার উদার বাণিজ্য নীতির সুযোগ নিয়েছে এবং মার্কিন পণ্যের ওপর বিপুল পরিমাণ শুল্ক চাপিয়েছে, যার বিপরীতে তারা নিজেরা কিছুই দেয়নি। তবে তার বর্তমান প্রশাসন এই নীতিকে সম্পূর্ণ উলটে দিয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প দাবি করেন, এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিপরীত এবং বর্তমানে আমরা ভারতের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছি।
Manual7 Ad Code
উল্লেখ্য, এই সপ্তাহের শুরুর দিকেই একটি অন্তর্বর্তীকালীন দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ভারতে এসে আলোচনা শেষ করেছে, যাকে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ এবং বাস্তবসম্মত বলে বর্ণনা করেছে।
নিজের পুরোনো ক্ষোভ পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্প আমেরিকার বিখ্যাত মোটর সাইকেল নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘হার্লে-ডেভিডসন’ এর উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতে ভারত এই মার্কিন ব্র্যান্ডের ওপর ২০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিল, যার ফলে তারা সেখানে ব্যবসা করতে না পেরে বাধ্য হয়ে ভারতেই নিজস্ব কারখানা স্থাপন করে।
তিনি এর সঙ্গে মার্কিন নীতির তুলনা করে বলেন, অথচ ভারতের তৈরি মোটর সাইকেলগুলো যখন মার্কিন বাজারে বিক্রি হতো, তখন আমরা তাদের কাছ থেকে কোনো শুল্কই নিতাম না। ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর কঠোর শুল্ক নীতির কারণে আমেরিকার অর্থনীতি এখন ভারতের বাজারে বড় ধরনের সুবিধা পাচ্ছে।
এর আগে গত ৭ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ও মোদির মধ্যে এক ফোনালাপের পর দুই দেশ প্রথম ধাপের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তির একটি রূপরেখা চূড়ান্ত করেছিল, যেখানে রাশিয়া থেকে তেল কেনার অপরাধে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়ে আনতে সম্মত হয়েছিল আমেরিকা।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের এই একতরফা শুল্ক আরোপের ক্ষমতার বিরুদ্ধে রায় দিলে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ট্রাম্প পরবর্তী ১৫০ দিনের জন্য সমস্ত দেশের ওপর নতুন করে ১০ শতাংশ সাধারণ শুল্ক জারি করেন। সুপ্রিম কোর্টের ওই আদেশের পর তৈরি হওয়া আইনি জটিলতা নিরসনে এবং নতুন বৈশ্বিক পরিস্থিতির আলোকেই মূলত দুই দেশ বর্তমানে এই বাণিজ্য চুক্তিটি নিয়ে পুনরায় আলোচনা শুরু করেছে।