ভারত-রাশিয়া যৌথভাবে হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে
ভারত-রাশিয়া যৌথভাবে হাইপারসনিক ‘ব্রহ্মস’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে
editor
প্রকাশিত জুন ১৯, ২০২৬, ০৫:২০ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual2 Ad Code
ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের পরিধি আরও বাড়তে চলেছে। এবার এই ক্ষেপণাস্ত্রের ছোট ও হাইপারসনিক সংস্করণ তৈরির কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ডেনিস আলিপভ। এই নতুন উদ্যোগ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর বহুমুখী আঘাত হানার সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
বুধবার (১৭ জুন) বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান রুশ রাষ্ট্রদূত।
Manual2 Ad Code
রাষ্ট্রদূত আলিপভ বলেন, ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আধুনিকায়নের সম্ভাবনা অপরিসীম। স্থলভাগ থেকে শুরু করে নৌবাহিনী, সাবমেরিন এবং আকাশপথে উৎক্ষেপণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে এটি দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। ২০১৭ সালের ঐতিহাসিক পরীক্ষার পর ভারত কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের এক শক্তিশালী ত্রিভুজ (ট্রায়াড) তৈরি করেছে, যা বিশ্বের অন্যতম দ্রুততম এবং নির্ভরযোগ্য প্রিসিশন স্ট্রাইক সিস্টেমের মর্যাদা পেয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ব্রহ্মস যৌথ উদ্যোগটি ভবিষ্যতে ভারত-রাশিয়া সহযোগিতার একটি আদর্শ মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি ভারতের প্রতিরক্ষা নীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে—প্রথাগত ক্রেতা-বিক্রেতা সম্পর্কের পরিবর্তে প্রযুক্তি শেয়ারিং, যৌথ উন্নয়ন এবং যৌথ উৎপাদনের পথে হাঁটছে দুই দেশ। পরবর্তীতে এই ধারণাটিই ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
অনুষ্ঠানে আলিপভ দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই প্রকল্পটি আমাদের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। এর পথ ধরেই ভারতে সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান, টি-৯০ যুদ্ধ ট্যাংক এবং সম্প্রতি একে-২০৩ রাইফেল তৈরির মতো বড় প্রকল্পগুলো সফল হয়েছে।
Manual5 Ad Code
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, সুখোই-৫৭ প্ল্যাটফর্মের ওপর ভিত্তি করে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি এবং এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উৎপাদন এই সফল যাত্রাকে আরও এগিয়ে নেবে। এটি ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বিদ্যমান গভীর আস্থা এবং কৌশলগত অংশীদারিত্বেরই অনন্য প্রতিফলন।
বর্তমানে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের বিশ্বব্যাপী চাহিদা বাড়ছে বলেও জানান রুশ রাষ্ট্রদূত। এশিয়া-প্যাসিফিক, পশ্চিম এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। তিনি বিশেষ উল্লেখ করেন ‘অপারেশন সিন্দূর’-এর কথা, যেখানে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র তার অসাধারণ দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা প্রমাণ করেছে।