মার্কিন চাপে নতি স্বীকার করবে না ইরান, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রেসিডেন্টের
মার্কিন চাপে নতি স্বীকার করবে না ইরান, ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান প্রেসিডেন্টের
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ০৯:২৬ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual4 Ad Code
যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও দেশের সরকার ও জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলে দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি স্পষ্ট জানান, জাতীয় ঐক্য বজায় থাকলে দেশের অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টির সব চেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।
Manual2 Ad Code
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে গত মাসে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ ঘোষণা করে। ওয়াশিংটন এটিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা হিসেবে বর্ণনা করেছে। লক্ষ্য হলো ইরান সরকার ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) টিকিয়ে রাখার অর্থনৈতিক উৎসগুলো বন্ধ করে দেওয়া।
তবে পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করেছেন, এসব চাপের কারণে সরকার কোনো নীতি পরিবর্তন করবে না। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
গত শুক্রবার কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, যুদ্ধ, অবরোধ আর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে শত্রুরা দেশের ভেতরে বিভেদ, ফাটল ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে চায়।
তার বক্তব্যে ২০১৯ ও ২০২০ সালের বিক্ষোভের কথাও উঠে এসেছে। সে সময় জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন পরে বড় ধরনের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।
চলতি সপ্তাহে টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মানুষ এখন এমনিতেই চাপে আছে। আমি যদি তাদের ওপর আরও চাপ দিই, তাহলে তারা হয়তো সীমা অতিক্রম করে ফেলবে।
তবে তিনি জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য নির্ধারিত তিন স্তরের পেট্রল কোটার মধ্যে একটি স্তরের দাম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিগুণ করা হবে। একইসঙ্গে মাসিক পেট্রল কোটাও কমানো হবে।
ইরানে দীর্ঘদিন ধরেই জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট চলছে। ব্যাপক জ্বালানি পাচার, তেল-গ্যাস অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি ও অবহেলা এবং ব্যয়বহুল কিন্তু নিম্নমানের ও বেশি জ্বালানি খরচ করা যানবাহনকে এর প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Manual7 Ad Code
পেট্রলের দাম আরও বাড়লে পরিবহণ ও পণ্য সরবরাহের খরচ বেড়ে যাবে। এর প্রভাব পড়তে পারে মূল্যস্ফীতিতেও, যা ইতিমধ্যেই ইরানের প্রায় সব পরিবারের ওপর চাপ তৈরি করেছে।
শনিবার সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে তেহরানের বাজার খুলতেই ইরানি রিয়ালের মান ঐতিহাসিক সর্বনিম্ন পর্য্যায়ে নেমে আসে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ৫০ হাজার রিয়ালে।