পদ্মা নদীর পানি বেড়ে কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পানিবন্দি মানুষগুলো এখন নদীভাঙন ও সাপ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। তাদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যা হতে পারে। পুরো পরিস্থিতি নজরে রেখে প্লাবিত এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।
নদীর পানি পরিমাপের তথ্যানুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বরের ২৪ ঘণ্টার হিসাবে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানি ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ১২ দশমিক ৯৮ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। আগের দিন ৯ সেপ্টেম্বর পানি ছিল ১২ দশমিক ৯০ মিটার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারণে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। পরে ধীরে ধীরে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়। এতে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও নিচু এলাকার বিভিন্ন স্থাপনা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্লাবিত এলাকার মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে সাপের আতঙ্ক। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঝোপঝাড়, গর্ত ও নিচু জায়গা থেকে সাপ উঠে শুকনো ও উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে পারে বলে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশু ও গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন পরিবারগুলো। রাতের বেলায় পানির মধ্যে চলাচল করতে গিয়ে সাপের কামড়ের আশঙ্কায় অনেকে ঘর থেকে বের হতেও ভয় পাচ্ছেন।
Manual7 Ad Code
এছাড়াও চিলমারী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর তীরবর্তী সীমান্তঘেঁষা উদয়নগর, আতারপাড়া ও ডিগ্রীরচর এলাকায় তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও যোগাযোগের সড়ক নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন বলেন, হঠাৎ করে পানি বাড়তে শুরু করেছে। বাড়ির চারপাশে পানি, চলাচলও কঠিন হয়ে গেছে। পানি আরও বাড়লে পরিবার নিয়ে কোথায় যাব, সেই চিন্তায় আছি।
আরেক বাসিন্দা মোজাম বলেন , আমাদের এলাকায় প্রতিবছরই পানির ভয় থাকে। এবার পানি যেভাবে বাড়ছে, তাতে নদীভাঙনের আশঙ্কাও করছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
Manual8 Ad Code
পানিবন্দি মানুষেরা বলছেন, পানি বাড়ার কারণে শিশুদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে চিন্তায় আছি। বাড়িঘরে পানি ঢুকে গেলে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সমস্যাও তৈরি হবে।
চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে ইউনিয়নের ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘর বাড়িতে পানির উঠে গেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। স্কুলগুলোতে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি ওঠার পর থেকে বিষধর সাপের উপদ্রবও বেড়েছে। ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের কে চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, আমার ১-ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের
Manual3 Ad Code
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের কে চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, আমার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে এখন পানি। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভেতরে পানি না ঢুকলেও ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে।
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ বলেন, ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকার ৩০০ পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন পুরো পরিস্থিতি নজরে রেখেছে। প্লাবিত এলাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বাত্মক সহযোগিতা দেওয়া হবে।
এছাড়াও তিনি পরিস্থিতি বিবেচনায় প্লাবিত দুই ইউনিয়নের ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাঠদান নিরুৎসাহিত করার কথা বলেন ।