সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দিতে আইনি নোটিশ
সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দিতে আইনি নোটিশ
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১, ২০২৬, ০৩:২৫ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়ার দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
Manual2 Ad Code
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে এই আইনি নোটিশটি প্রেরণ করেন।
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যক্তিমালিকানা নিশ্চিত করা ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে ‘সমাজতন্ত্র’ এবং এ দেশের হাজার বছরের ইতিহাস ও সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদে বর্ণিত ধর্মীয় স্বাধীনতার সাথে সাংঘর্ষিক হওয়ায় ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাতিল করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি।
Manual5 Ad Code
রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (জন বিভাগ), জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেবে এবং পরবর্তীতে জনগণের অনুমোদনের জন্য তা জাতীয় গণভোটে দেওয়া হবে। রাষ্ট্রের এই আসন্ন পুনর্মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে সংবিধানে কৃত্রিমভাবে চাপিয়ে দেওয়া এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী নীতিগুলো বাদ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মূলনীতিতে স্থান পাওয়া ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র মতো সেকেলে ও আরোপিত মতবাদগুলো স্বাধীন বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার চরম পরিপন্থি।
Manual2 Ad Code
নোটিশে বলা হয়, অ্যানসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার প্রামাণ্য সংজ্ঞা অনুযায়ী সমাজতন্ত্রের মূল লক্ষ্যই হলো ব্যক্তিমালিকানা ধ্বংস করে সব সম্পদ রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়া। বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতির যুগে রাষ্ট্রীয় সমাজতন্ত্র পুরো বিশ্বেই একটি ব্যর্থ ধারণা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। অথচ আমাদের সংবিধানে এখনও ‘সমাজতন্ত্র’ বহাল থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বড় ধরনের পুঁজি খাটাতে ভয় পান। তাদের মনে সবসময় এই আতঙ্ক কাজ করে যে, সংবিধানের সমাজতান্ত্রিক নীতির দোহাই দিয়ে যে–কোনো সময় তাদের ব্যক্তিগত শিল্প-প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক বিনিয়োগ সরকার জাতীয়করণ করে নিতে পারে। এই একটি অমূলক ও সেকেলে শব্দের কারণেই দেশে কাঙ্ক্ষিত বিদেশি বিনিয়োগ আসছে না এবং বেসরকারি খাত পুরোপুরি বিকশিত হতে পারছে না। তাই, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের সুরক্ষায় সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮ এবং অনুচ্ছেদ ১০ থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ অবিলম্বে বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।
আইনি নোটিশে, আগামী ৯০ (নব্বই) দিনের মধ্যে সংবিধান সংশোধন ও জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ সম্পূর্ণ অপসারণের প্রয়োজনীয় আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।সুএঃ ঢাকা পোস্ট