মধ্যপ্রাচ্য বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এলপিজির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। গত মার্চ মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১৩৪১ টাকা। সোমবার (২ নভেম্বর) দাম বাড়ানোতে ৬ মাস পর এসে এখন একই সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ২০৬০ টাকা। অর্থাৎ ছয় মাসে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে ৭১৯ টাকা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের এলপিজির বেশিরভাগ আনা হতো মধ্যপ্রচ্যের দেশগুলো থেকে। এখন ৮৫ ভাগ এলপিজি আনা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দামের সঙ্গে যোগ হয়েছে বাড়তি জাহাজ ভাড়া। এতে দাম বেড়ে গেছে।
বছরের শুরুতে গত এপ্রিলে এলপিজির দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়ে যায়। তখন দেশে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা। বছরের মাঝামাঝি দাম কমে আসে। জুলাইতে প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৫২৮ টাকা। টানা তিন মাস এই দাম কম ছিল। আগস্টেও যা ছিল ১ হাজার ৫৯৮ টাকা আর সেপ্টেম্বরে ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা।
তবে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসে অস্বাভাবিকভাবে পরিবহন ব্যয় বিশেষ করে এলপিজি ক্যারিয়ার বা জাহাজ ভাড়া বেড়ে যায়। তখন প্রতি টন এলপিজির পরিবহন ব্যয় ১২০ ডলার থেকে বেড়ে ২৫০ ডলারে দাঁড়ায়। এ জন্য এলপিজি আমদানি কম করে অপারেটররা। একইসঙ্গে জাহাজ ভাড়ার কারণে দাম বাড়বে এমন বিষয় আগেভাগে বুঝতে পেরে এলপিজি সরবরাহ সীমিত করে কোম্পানিগুলো।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দফায় দফায় বৈঠক করেও বিষয়টি স্বাভাবিক করতে পারেননি। সবশেষ মালিকদের এই অসহযোগিতার সঙ্গে যোগ হয় ডিস্টিবিউটর আর খুচরা ব্যবসায়ীদের আন্দোলন। তারাও একইসঙ্গে তাদের মুনাফা বাড়ানোর আন্দোলনে নামে। ধর্মঘটের ডাক দেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে যোগ হয় বাড়তি মুনাফা। সব মিলিয়ে গত দুই মাসেই এলপিজির দাম বাড়ে প্রতি ১২ কেজিতে ৪৭২ টাকা।
আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির কাঁচামালের দাম
দেখা যায়, গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের নভেম্বরে সৌদি আরামকোর এলপিজির চুক্তিমূল্য (সিপি) উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রতি টন প্রপেনের দাম ছিল ৪৭৫ ডলার, যা চলতি বছরের নভেম্বরে বেড়ে ৭২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রপেনের দাম বেড়েছে ২৪৫ ডলার বা ৫১ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে বিউটেনের দাম প্রতি টন ৪৬০ ডলার থেকে বেড়ে ৭৮০ ডলার হয়েছে। এতে বিউটেনের দাম বেড়েছে ৩২০ ডলার বা ৬৯ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রপেনের তুলনায় বিউটেনের দাম বৃদ্ধির হার বেশি।
Manual1 Ad Code
বছরব্যাপী বাজারে এলপিজির দাম
বছরব্যাপী মূল্য বিবেচনা করলে দেখা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১২ কেজির এলপিজির সিলিন্ডার ১ হাজার ২৫৩ টাকা থেকে ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা করা হয়। পরে ভ্যাট কমানোর কারণে ১৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৪১ টাকা। মার্চে দাম অপরিবর্তিত ছিল। এরপর এপ্রিলে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় ৩৮৭ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় নির্ধারণ করা হয়।
অর্থাৎ, ২০২১ সালের এপ্রিলে ১২ কেজি এলপিজির দাম ছিল ৯৭৫ টাকা; যা ২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৪০ টাকা। দেখা যাচ্ছে, ৫ বছরে দাম বেড়েছে ৯৬৫ টাকা, যা প্রায় ৯৯ শতাংশ।
Manual3 Ad Code
চলতি বছরের এপ্রিলের পর আগস্টে এক দফায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা নির্ধারণ করে বিইআরসি। তবে এর আগে জুনে ৫৫ টাকা এবং জুলাইয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। সেপ্টেম্বরে আরও ১৩ টাকা কমিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্টোবরে ২৫২ টাকা আর নভেম্বরে ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা হয়েছে। তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন