পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছেঃ রুহুল কবির রিজভী
পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছেঃ রুহুল কবির রিজভী
editor
প্রকাশিত November 3, 2026, 01:02 AM
Manual8 Ad Code
উৎফল বড়ুয়া, সিলেট
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি, চাঁদাবাজি, মাস্তানি ও মানুষের জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (২ অক্টোবর) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি কঠিন সংকটের মধ্যে সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশের কলকারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব পড়ে।
রিজভী বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, সার ও গ্যাসের সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে নানা ধরনের উসকানি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পরাজিত শক্তি দেশের বাইরে থেকে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। দেশের ভেতরেও কিছু রাজনৈতিক শক্তি নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় লিপ্ত।
রিজভী বলেন, বিএনপি ১৭ বছর গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছে। সেই লড়াইয়ের চেতনা থেকেই সরকার গণতান্ত্রিক সহনশীলতার নীতি অনুসরণ করছে। দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের নীতিতে সরকার দেশ পরিচালনা করছে।
তিনি বলেন, বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের বিকাশ নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ পথে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, শ্রমিকদের নানা ধরনের উসকানি দিয়ে রাস্তায় নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর পেছনে পতিত শক্তি ও বিরোধী রাজনৈতিক শক্তির ইন্ধন রয়েছে বলে তারা মনে করেন। গতকাল ঘটনাস্থল থেকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ১১ নেতাকর্মীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন পোস্ট ও বক্তব্যও সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হচ্ছে—এটি এখন জনগণের কাছে স্পষ্ট।
রিজভী বলেন, দেশের রাজনৈতিক বিষয়গুলো সংসদে বা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু সে পথে না গিয়ে লংমার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এতে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় কড়া নাড়ছে’—এমন বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি সরকারের বয়স মাত্র আট মাস। এরই মধ্যে সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাজ করছে। দেশের বাইরে গিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব বিষয়কে উপেক্ষা করে অপপ্রচারের মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। যারা ‘বিপ্লবের’ কথা বলছেন, তাদের অতীত ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিএনপি প্রকাশ্যে গণতন্ত্র ও একটি নীতি-আদর্শের জন্য ১৭ বছর আন্দোলন করেছে। এই আন্দোলনে অনেক নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন, রক্ত ঝরেছে।
রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি পার্শ্ববর্তী দেশে গিয়ে নানা ধরনের কর্মকাণ্ড ও উসকানি দিচ্ছে। তাদের প্ররোচনায় কেউ কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলে তা তাদের জন্যও মঙ্গলজনক হবে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় ফেলে চোরাপথে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের জনগণ অত্যন্ত গণতন্ত্রকামী। তারা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায়।
রিজভী বলেন, জনগণের ভোটের মাধ্যমেই বিএনপি ও তার জোট ক্ষমতায় এসেছে। কেউ চোরাপথে বা পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে তা দেশের জনগণ মেনে নেবে না।
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামের পর বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যেই সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।
মতবিনিময় সভায় সংসদ সদস্য এমএ মালিক, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।