প্রশাসক এর ভারে ভারাক্রান্ত এনজিও “উদ্দীপন”, ভোগান্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকেরা!!!
প্রশাসক এর ভারে ভারাক্রান্ত এনজিও “উদ্দীপন”, ভোগান্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকেরা!!!
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৬, ২০২৫, ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ
Manual5 Ad Code
এ এইচ এম নুরুল ইসলাম , অবসরপ্রাপ্ত সচিব এবং চেয়ারম্যান, জিটিসিএল বোর্ড। ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ইং সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত এই সচিবকে উদ্দীপনের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগপত্রে দায়িত্বভার গ্রহণ, সংস্থা পরিচালনায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন এবং নির্বাচিতদের কাছে দ্রুততার সঙ্গে দায়িত্ব হস্তান্তরের মতো বিষয়গুলোকে তার কর্মপরিধি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যা কিনা বর্তমানে অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। পরবর্তীতে সংস্থার অনিয়ম ও কুশাসনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে প্রশাসকের মেয়াদ ৯০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১৫০ দিন করার অনুরোধ করেন বর্তমান প্রশাসক। আবেদনের যৌক্তিকতা বিবেচনায় নিয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সমাজসেবা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তা অনুমোদন দেওয়া হয়।
Manual6 Ad Code
প্রশাসক এ এইচ এম নুরুল ইসলাম বর্তমানে বর্ধিত মেয়াদের শেষ প্রান্তে অবস্থান করছেন। কিন্তু কর্মপরিধির বাস্তবায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা খুব দ্রুতই নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেব। সংস্থার গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন-পরবর্তী দায়িত্ব হস্তান্তরে এক মিনিটও দেরি করব না।’
এদিকে, নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য ২১ দিন সময় প্রয়োজন হয়। আজ থেকেই সেই ২১ দিনের সময় গণনা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসক কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে জানা যায়নি।
আমলাতান্ত্রিক এই জটিলতায় বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ইউনাইটেড ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভস ফর প্রোগ্রামড অ্যাকশন (উদ্দীপন) এর সকল কার্যকরেমে নেমে এসেছে বিরাট স্থবিরতা।
প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসের মধ্যে সংস্থাটির খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার ৪০৩ টাকা।
উদ্দীপনের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, তবে নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের আগে এ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২৮০ কোটি টাকা। যা গত ১৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ, গত তিন মাসে সংস্থাটির ১৮৯ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে।
সংস্থাটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসক বসার পর থেকে উদ্দীপনের অনেক কর্মকাণ্ড থমকে গেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণের অনেক কিস্তি পরিশোধ করেনি গ্রাহকরা। প্রশাসকের কার্যকারিতা না থাকা, নিয়মিত অফিসে না আসা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) অনুপস্থিতির কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে উদ্দীপনে। প্রশাসক স্বচ্ছ নির্বাচন না করে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উদ্দীপনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। তার অধীনে বন্ধ হয়ে গেছে সংস্থার বহু সেবামূলক প্রকল্প, যা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
Manual1 Ad Code
দায়িত্ব গ্রহণের পর আজ অবধি উদ্দীপনের কার্যক্রমে কোনো গতি আনতে পারেননি তিনি। শুধু ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের দিকে তাকালেই এ চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অব্যবস্থাপনা ও অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির কারণে সংস্থাটিতে ঋণ খেলাপি এখন নিত্যদিনের চিত্র।
Manual5 Ad Code
খেলাপি দিন দিন বেড়েই চলছে। গত তিন মাসে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৬৯ কোটি টাকা। ঋণের নামে লুট হচ্ছে লাখ লাখ টাকা, যা কেবল প্রশাসকের অদূরদর্শিতা ও অব্যবস্থাপনার ফল। এর দায় তিনি এড়াতে পারেন না।
Manual3 Ad Code
মানবসম্পদ বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ মনির হোসেন ও তার সহযোগীরা এই অরাজক অস্থিরতার মূলে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন উদ্দীপনে কর্মরত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। ৫ আগস্টের পর থেকেই হিংস্র আচরণ করতে শুরু করেন। সংস্থার সব ক্ষেত্রেই তার অনধিকারচর্চা বেড়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।এদিকে, উদ্দীপনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বিদ্যুৎ কুমার বসুকে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। সিইওর অনুপস্থিতিও সংস্থাটির কার্যক্রমে ধীর গতি এনেছে। গত ৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর আদাবর এলাকার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এতে নেতৃত্ব দেন মানবসম্পদ বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ মনির হোসেন।
কর্মকর্তারা জানান, ওই দিন সকাল ১১টার দিকে অফিসে পৌঁছালে গেটেই তাকে আটকে দেওয়া হয়। পরে অফিসে প্রবেশের অনুমতি মিললেও নিজ কক্ষে যেতে দেওয়া হয়নি। এরপর মানবসম্পদ বিভাগে নিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানো হয়। এমনকি তার ব্যক্তিগত গাড়ির চাবিও নিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার সময় পুলিশ উপস্থিত থাকলেও নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি।
প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের তদন্ত করা হয়নি। একই সঙ্গে কোনো ধরনের ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি। অথচ অনিয়মের কারণেই তিনি নির্ধারিত মেয়াদের অতিরিক্ত ৬০ দিন সময় চেয়ে নিয়েছিলেন।প্রশাসক এ এইচ এম নুরুল ইসলাম