আজ রবিবার, ১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে আদেশ রোববার

editor
প্রকাশিত মার্চ ৫, ২০২৬, ০১:২৮ পূর্বাহ্ণ
সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে আদেশ রোববার

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

হত্যা ও রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ আলাদা চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে আদেশের জন্য রোববার (০৮ মার্চ) দিন রেখেছে হাই কোর্ট।

বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ বুধবার (০৪ মার্চ) রুলের ওপর শুনানি শেষে আদেশের এই দিন ঠিক করেছে।

Manual3 Ad Code

এদিন আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজা। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ, নাহিদ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান।

আদালতের কার্যতালিকায় ১৯ থেকে ২২ নম্বর ক্রমিকে থাকা মামলাগুলোর শুনানির সময় বেলা ২টায় নির্ধারিত ছিল। শুনানি চলাকালে আদালত কক্ষে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত ছিল।

Manual6 Ad Code

গত বছরের ২৬ অক্টোবর হত্যা, রায় জালিয়াতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় খায়রুল হককে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।

গত ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ওইদিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠায় আদালত।

Manual5 Ad Code

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ হয়ে যায়।

খায়রুল হক অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৩ অগাস্ট আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন খায়রুল হক। এরপর তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা দায়ের হয়।

দুর্নীতি ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ অগাস্ট তার বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন।

এর আগে ২৫ অগাস্ট খায়রুলের বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। মামলায় সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় পরিবর্তন ও জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়।

এদিকে তার বিরুদ্ধে ‘বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট নেওয়ার’ একটি অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক।

এর অংশ হিসেবে দুদক বৃহস্পতিবার গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজউক চেয়ারম্যান এবং উপকর কমিশনারের কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র তলব করেছে।

Manual3 Ad Code

তবে দুদকের একজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক বিধিবহির্ভূতভাবে একটি প্লট গ্রহণ করেছেন–এ রকম একটি অভিযোগ অনুসন্ধানে নথিপত্র চেয়ে পাঠানো হয়েছে।”

তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর