প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার
admin
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬, ০১:৪০ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে সরকার। জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল্যায়ন পদ্ধতি পরিমার্জনের অংশ হিসেবে তিন বছর পর আবার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।
Manual4 Ad Code
গত ২৬ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এনসিসিসির সভায় প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির মূল্যায়ন পদ্ধতিতে এ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা।
সংশোধিত মূল্যায়ন কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে যেসব বিষয়ে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান করা হয়, সেসব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন বা পরীক্ষা ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যেসব বিষয়ে কেবল শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান হয়, সেসব বিষয়ে শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন কার্যকর থাকবে। কোনো সামষ্টিক মূল্যায়ন নেওয়া হবে না।
Manual5 Ad Code
তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষক সহায়িকার ভিত্তিতে পাঠদানের বিষয়গুলোতে ধারাবাহিক মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ এবং সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। আর যেসব বিষয়ে শুধু শিক্ষক সহায়িকার মাধ্যমে পাঠদান হয়, সেগুলোতে ১০০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নই থাকবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মো. সাফায়েত আলম সমকালকে জানান, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পর ২০২৩ সাল থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা তুলে দেওয়া হয়েছিল। এবার অভিজ্ঞতার আলোকে মূল্যায়ন পদ্ধতি পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
এনসিটিবির শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্ট শাখার ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ মাফরুহা নাজনীন বলেন, নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি চলতি বছর থেকেই কার্যকর হবে। প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নিজ উদ্যোগে প্রান্তিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করবে। প্রয়োজনে পার্শ্ববর্তী একাধিক বিদ্যালয় যৌথভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি করতে পারবে। এ ছাড়া প্রতি প্রান্তিকে সামষ্টিক মূল্যায়নের প্রশ্নপত্রে পাঠ্যপুস্তকের অনুশীলনী থেকে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
Manual6 Ad Code
এনসিসিসির সভার কার্যবিবরণী আনুষ্ঠানিকভাবে হাতে পাওয়ার পর এনসিটিবি স্কুলগুলোর জন্য নির্দেশনা জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাবে। তবে প্রাক-প্রাথমিক স্তরের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসছে না। মাফরুহা নাজনীন বলেন, আগের মতোই এ স্তরে কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্যায়ন কার্যক্রম থাকবে না।
বিগত সরকারের সময় ২০২৩ সালে প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী প্রাক-প্রাথমিক পর্যায়ের শিশু শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে সব বিষয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠ্যপুস্তকের বিষয়গুলোতে ৫০ শতাংশ সমষ্টিক মূল্যায়ন ও ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের বিধান ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর মাধ্যমিক পর্যায়ের ওই কারিকুলাম বাতিল হয়ে গেলেও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে প্রাথমিক পর্যায়ের কারিকুলাম বহাল রাখা হয়। ২০২৫ সালে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পরীক্ষা হয়নি।