আজ মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানির খুনিদের চরম মূল্য দিতে হবে: মোজতবা খামেনি

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ণ
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানির খুনিদের চরম মূল্য দিতে হবে: মোজতবা খামেনি

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

তেহরানে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানিসহ শীর্ষ নেতাদের হত্যার বদলা নেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।

Manual5 Ad Code

বুধবার (১৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, লারিজানি ও তার সহযোগীদের এই হত্যাকাণ্ডের জন্য খুনিদের অচিরেই ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।

গত সোমবার রাতে তেহরানে পরিচালিত এক অতর্কিত হামলায় আলী লারিজানি তার পুত্রসহ নিহত হন। এর প্রায় একদিন পর ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি লারিজানিকে একজন ‘বুদ্ধিমান ও অঙ্গীকারবদ্ধ’ ব্যক্তিত্ব হিসেবে অভিহিত করেন।

বিবৃতিতে নতুন সর্বোচ্চ নেতা উল্লেখ করেন, লারিজানির মতো একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের শাহাদাত প্রমাণ করে তিনি ইসলামের শত্রুদের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও আতঙ্কের কারণ ছিলেন। প্রতিটি ফোঁটা রক্তের হিসাব নেওয়া হবে এবং শহীদদের খুনিদের এই দায় অচিরেই পরিশোধ করতে হবে বলে তিনি হুঙ্কার দেন।

ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে গত কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিক বিপর্যয় চলছে। সোমবারের একই দিনে অপর এক হামলায় দেশটির প্রভাবশালী আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

সহিংসতার এই ধারা অব্যাহত থাকায় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আরেকটি ভয়াবহ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের গোয়েন্দা বিষয়কমন্ত্রী ইসমাইল খতিব। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় খতিবের মৃত্যুকে একটি ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

মূলত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এক যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকেই পুরো অঞ্চলে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় মোজতবা খামেনি নিজেও আহত হয়েছিলেন, তবে বাবার মৃত্যুর কয়েক দিন পরই তাকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

বুধবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা করেছেন, এখন থেকে ইরানের যেকোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য তাদের সামরিক বাহিনীকে স্থায়ী ও উন্মুক্ত অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

Manual6 Ad Code

এই নতুন নির্দেশনার ফলে এখন থেকে ইরানি নেতাদের ওপর হামলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আর কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষা করতে হবে না। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থান এবং ধারাবাহিক হামলা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তাকে এখন চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Manual5 Ad Code