আজ রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিএনএনের অনুসন্ধান; গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বাড়াচ্ছে চীন

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০১:০১ পূর্বাহ্ণ
সিএনএনের অনুসন্ধান; গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র বাড়াচ্ছে চীন

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে তুমুল উত্তেজনার মধ্যেই চীন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা গোপনে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে বলে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

দেশটির সিচুয়ান প্রদেশে গ্রাম উচ্ছেদ করে নতুন স্থাপনা নির্মাণ, রহস্যময় গম্বুজাকৃতির ভবন এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা কেন্দ্রগুলোর সম্প্রসারণ এই প্রক্রিয়ারই অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কয়েক দশক স্থবির থাকার পর এই প্রদেশে পারমাণবিক অবকাঠামোর ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটাচ্ছে বেইজিং। এমন প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং সম্ভাব্য নতুন অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া সাম্প্রতিক ছবি বিশ্লেষণ করে সিএনএন জানিয়েছে, চীনের ‘সাইট ৯০৬’ নামক একটি অতিগোপনীয় সামরিক স্থাপনায় অভ‚তপূর্ব উন্নয়ন লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে পরিত্যক্ত বা অপরিবর্তিত অবস্থায় থাকা এই স্থাপনায় এখন বিশালাকার নতুন ভবন, সুড়ঙ্গ এবং একটি শক্তিশালী ‘ডোম’ বা গম্বুজসদৃশ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম বা প্লুটোনিয়ামের মতো অত্যন্ত তেজস্ক্রিয় পদার্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার গোপনীয়তা বজায় রাখতেই এই বিশাল গম্বুজটি নির্মাণ করা হয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, চীন গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র অবকাঠামো নির্মাণের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

সিএনএন’র বিশ্লষণ অনুযায়ী, চীনের ১৩৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক স্থাপনার মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশেরই সম্প্রসারণ কাজ চলছে। বিশেষ করে ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই সামরিক স্থাপনাগুলোর আয়তন প্রায় ২০ লাখ বর্গমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন সম্ভবত এমন এক নতুন প্রজন্মের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে-যা আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং নির্ভুল। এর মধ্যে ছোট আকৃতির একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রযুক্তিতে চীন বিশেষ জোর দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে বেইজিং বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের পারমাণবিক নীতি শুধুমাত্র আÍরক্ষামূলক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব পারমাণবিক আধিপত্য বজায় রাখতেই চীনের বিরুদ্ধে এমন অপপ্রচার চালাচ্ছে। শিগগিরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের কথা রয়েছে।

Manual5 Ad Code

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চীনের এই ক্রমবর্ধমান পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওপর বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারেন। দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান ইস্যু নিয়ে যখন ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে, তখন এই নতুন তথ্য এশিয়ায় অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

উল্লে­খ্য, ১৯৯৬ সালে আন্তর্জাতিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কেউই এখন পর্যন্ত তা অনুসমর্থন করেনি। তবে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী উভয় দেশ এই চুক্তি মেনে চলতে দায়বদ্ধ। চীন সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্র ১৯৯২ সালে তাদের শেষ দাপ্তরিক ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছিল।

Manual2 Ad Code

বর্তমানে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির স্থলাভিষিক্ত নতুন একটি চুক্তিতে চীনকেও অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বিশ্বে নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

Manual7 Ad Code