আজ মঙ্গলবার, ১৯শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন ব্লকেডকে ফাঁকি; ৩৪ জাহাজ আর ১১ হাজার কোটি টাকার তেল পার করল ইরান

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন ব্লকেডকে ফাঁকি; ৩৪ জাহাজ আর ১১ হাজার কোটি টাকার তেল পার করল ইরান

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিকে দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি বলেছেন, অবরোধ কৌশল ‘অত্যন্ত সফল’ হয়েছে এবং ইরানের সঙ্গে ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ তুলে নেওয়া হবে না।

কিন্তু অন্যদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ব্লকেডকে ফাঁকি দিয়েই ইরান সংশ্লিষ্ট অন্তত ৩৪টি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়ে গেছে। আর এসব জাহাজে যে পরিমাণ তেল পাঠিয়েছে ইরান, একেবারে রক্ষণাত্মক হিসাবেও সেটার মূল্য বাংলাদেশি টাকায় ১১ হাজার কোটি টাকার বেশি!

Manual4 Ad Code

১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ আরোপ করে। এর লক্ষ্য ছিল সমুদ্রপথে ইরানের সব ধরনের বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং যুদ্ধের কাজে ব্যবহার হতে পারে – এমন পণ্যবাহী জাহাজগুলোকেও থামানো। এ পর্যন্ত ওমান উপসাগরে একটি কনটেইনার জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইন্দো–প্যাসিফিক অঞ্চলে একটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকারে তল্লাশি চালিয়েছে।

Manual6 Ad Code

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মঙ্গলবার জানায়, অবরোধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ২৮টি জাহাজকে ঘুরে যেতে বা বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে।

কিন্তু ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, ইরান সংশ্লিষ্ট ৩৪টি জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে পার হয়ে গেছে। এর মধ্যে অন্তত ১৯টি ইরান-সংশ্লিষ্ট ট্যাংকার উপসাগর ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। বাকি ১৫টি আরব সাগর থেকে উপসাগরে ঢুকে ইরানের দিকে গেছে।

উপসাগর ছেড়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত ছয়টি ইরানি অপরিশোধিত তেল বহন করছিল বলে জানাচ্ছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস। এগুলোতে মোট প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি তেল সাধারণত ব্রেন্টের তুলনায় কম দামে বিক্রি হয়। বাজারমূল্যের চেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০ ডলার কম ধরে হিসাব করলেও, এসব তেলের মোট মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৯১ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় ১১ হাজার ১৭১ কোটি টাকারও বেশি!

ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে পাড়ি

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন বলছে, ডোরেনা নামের একটি ইরানি পতাকাবাহী সুপার ট্যাংকার ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেই মার্কিন অবরোধ পেরিয়ে যায়। ট্রান্সপন্ডার হলো এমন একটি যন্ত্র, যা জাহাজের অবস্থান ও পরিচয় জানান দেয়।

Manual2 Ad Code

ভর্টেক্সা নামের একটি তথ্যবিষয়ক প্রতিষ্ঠান জানাচ্ছে, ডোরেনা জাহাজটি ১৭ এপ্রিল ইরানের জলসীমা ছেড়ে যায়। এরপর ২০ এপ্রিল আরও দুটি তেলবাহী জাহাজ অবরোধ পেরিয়ে যায়। ডোরেনা পরে মালয়েশিয়ার উপকূলে আরেকটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজে তেল স্থানান্তর করে, যাতে তেলের উৎস গোপন রাখা যায়।

অন্য নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ট্যাংকারও ওমান উপসাগর থেকে উপসাগরে ঢুকেছে। যেমন — মুরলিকিশান ও অ্যালিসিয়া নামের দুটি জাহাজ, যেগুলোকে গত বছর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। এই দুটি জাহাজ ১৪ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে উপসাগরের উত্তর দিকে যায়।

Manual1 Ad Code

১৮ এপ্রিল ইরান জানায়, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘আগের অবস্থায়’ ফিরে এসেছে, যদিও ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ তখনও চলছিল।

হরমুজে চলাচলে ইরানের অনুমতি বাধ্যতামূলক

এদিকে ইরানি নৌবাহিনী এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখার অনুমতি নিতে হবে। বেসামরিক জাহাজকে নির্ধারিত পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে, তবে সামরিক জাহাজের চলাচল এখনো নিষিদ্ধ।

তারা এই শর্তগুলোকে ‘নতুন নিয়ম’ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং বলেছে, এটি যুদ্ধবিরতির শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইরান প্রথমে প্রণালি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করলেও পরে জানায়, জাহাজ চলাচলের জন্য অনুমতি নিতে হবে। এ ঘোষণার পর অন্তত ৩০টি জাহাজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

শনিবার একটি ফরাসি কনটেইনার জাহাজ ও একটি ভারতীয় ট্যাংকারে গুলি চালায় ইরানি বাহিনী।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজমালিকরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান — উভয়ের এই পদক্ষেপকে ‘দ্বৈত অবরোধ’ হিসেবে দেখছেন।