প্রথম দফা ভোটের ‘মার্কশিট’ প্রকাশ বিজেপির, অমিত শাহ বললেন, ‘১১০টির বেশি আসন জিতব’
প্রথম দফা ভোটের ‘মার্কশিট’ প্রকাশ বিজেপির, অমিত শাহ বললেন, ‘১১০টির বেশি আসন জিতব’
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০৪:৪৮ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই বিজেপি তাদের প্রথম দফার ‘মার্কশিট’ প্রকাশ করলো। গেরুয়া শিবিরের দাবি, ১৫২ আসনের মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে জিতবে তারা।
আজ শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে নিউটাউনে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি শুধু আসন সংখ্যা নিয়েই কথা বলেননি বরং একই সঙ্গে প্রথম দফার ভোটের চরিত্র, ভোটদানের হার, নিরাপত্তা, ইভিএম বিতর্ক, দ্বিতীয় দফার বার্তা—সব নিয়েই বিজেপির অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ দফায় ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, প্রথম দফায় ভোটদানের হার ৯২ শতাংশের বেশি, যা সাম্প্রতিক নির্বাচনের তুলনায় অত্যন্ত বেশি। ইকোনমিক টাইমসের রিপোর্টে ভোটদানের হার প্রায় ৯২.৭২ শতাংশ বলা হয়েছে। বিজেপি এই বিপুল ভোটদানের হারকে সরাসরি পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, সারারাত বিজেপি প্রথম দফার ভোটের বিশ্লেষণ করেছে। সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৫২টির মধ্যে ১১০টির বেশি আসনে বিজেপি জিততে চলেছে। তার দাবি, বাংলায় এবার শুধু ভোট হয়নি, ভয় থেকে ভরসার দিকে মানুষের যাত্রা শুরু হয়েছে।
অমিত শাহ প্রথম দফার ভোটকে ‘শান্তিপূর্ণ’ বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘বহু বছর পর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এমন পরিবেশ দেখা গেল, যেখানে ভোটাররা ভয়মুক্তভাবে বুথে গিয়েছেন’। এজন্য নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।
প্রথম দফার ভোটে কেউ নিহত হয়নি। আর সেটাকেই বাংলার ভোট-রাজনীতির বড় পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরেছেন বিজেপি নেতা। গেরুয়া শিবিরের এই নেতা আরও বলেন, বাংলায় প্রতিষ্ঠানবিরোধিতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
আগে এই ক্ষোভ থাকলেও ভয় দেখিয়ে ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেয়া হত—এমন অভিযোগও করেন তিনি। শাহ’র মতে, এবার পুলিশ, প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর বন্দোবস্তের কারণে মানুষ অনেক বেশি নিশ্চিন্তে ভোট দিয়েছেন।
বিজেপি মনে করছে, বেশি ভোট পড়া মানেই শুধু গণতান্ত্রিক উৎসাহ নয়, এর মধ্যে লুকিয়ে আছে শাসকদলের বিরুদ্ধে জমে থাকা ক্ষোভ। অমিত শাহ এটাকে ‘সুনামি’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তার বক্তব্য, বিজেপি সরকার বানায় না, সরকার বানায় জনগণ।
ইভিএম বদলের অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে সংবাদ সম্মেলনে। কয়েকটি বুথে ইভিএম বদলে দেয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এ বিষয়ে অমিত শাহ বলেন, বিজেপির প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। তার দাবি, কমিশন বিষয়টি দেখবে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে।
Manual5 Ad Code
অমিত শাহের বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘পরিবর্তন’-এর ব্যাখ্যা। তিনি বলেন, পরিবর্তন মানে শুধু বিধায়ক বদল বা দল বদল নয়। পরিবর্তন মানে দুর্নীতি দূর করা, সিন্ডিকেট-রাজ শেষ করা, প্রশাসনের ওপর থেকে রাজনৈতিক চাপ সরিয়ে দেয়া।
তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে কাটমানি আর সিন্ডিকেটের রাজনীতি শেষ হবে।
এরপর আসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গও। বিজেপির এই শীর্ষ নেতা স্পষ্ট বলেন, ৫ তারিখের পর বাংলায় জন্ম নেয়া, বাংলামাধ্যমে পড়া একজন বাঙালিই পশ্চিমবঙ্গের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হবেন। তৃণমূল দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব তুলে এসেছে। অমিত শাহ সেই আক্রমণের জবাব দিলেন বাঙালি মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস দিয়ে।
প্রথম দফার ভোটের পর দ্বিতীয় দফার জন্যও বিশেষ বার্তা দেন বিজেপির এই নেতা। প্রশ্ন করা হয়, দ্বিতীয় দফার আসনগুলি কি বিজেপির কাছে কঠিন? উত্তরে বিজেপি নেতা বলেন, আলাদা করে দ্বিতীয় দফা নয়, পুরো পশ্চিমবঙ্গই বিজেপির জন্য কঠিন ছিল।
Manual4 Ad Code
কিন্তু এখন তিনি বাংলায় ‘পরিবর্তনের সুনামি’ দেখতে পাচ্ছেন। তার বার্তা—প্রথম দফার ভোটাররা যে যাত্রা শুরু করেছেন, দ্বিতীয় দফার ভোটাররা সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক কথার পাশাপাশি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথাও বলেন অমিত শাহ। মধ্যমগ্রামের রোড শো-র কথা তুলে তিনি বলেন, ‘সেখানে যে ভিড় হয়েছিল, তা কল্পনার বাইরে’। ধাক্কাধাক্কির মধ্যেও এক বয়স্ক নারী দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে তার কাছে যান। শাহ বলেন, ‘এই অভিজ্ঞতা আমার ব্যক্তিগত জীবনেও বড় শক্তি জুগিয়েছে। বিরোধীদের আক্রমণ তখন আর গায়ে লাগে না।’
Manual6 Ad Code
ঝালমুড়ি প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। মোদির গঙ্গায় নৌকাভ্রমণ এবং ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ঝালমুড়ি খান, তাহলে মোদি খেলে আপত্তি কোথায়?’
Manual3 Ad Code
এর আগে প্রথম দফার ভোটের পর বৃহস্পতিবার রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অমিত শাহ ভোটারদের অভিনন্দন জানান। তিনি লেখেন, ‘বাংলার ইতিহাসে অন্যতম শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পশ্চিমবঙ্গ পুলিশকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার এবারের নির্বাচনে দুই দফায় ২৯৪ আসনে ভোট গ্রহণ হবে। আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকার ১৪২টি আসনে লড়াই হবে। নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।