ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত সংকটে
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বব্যাপী অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত সংকটে
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ০১:৩৯ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ফলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বৈশ্বিক গোলাবারুদের মজুত বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।
এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ভাণ্ডারের একটি বিশাল অংশ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, যা পেন্টাগনকে তাদের এশিয়া ও ইউরোপীয় কমান্ডের সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে পাঠাতে বাধ্য করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পরিস্থিতির ফলে বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষা করা ওয়াশিংটনের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট ব্যয় সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক হিসাব দেননি, তবে দুটি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা দাবি করেছে যে যুদ্ধের খরচ ২৮ বিলিয়ন থেকে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মধ্যে পৌঁছেছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ বিলিয়ন বা ১০০ কোটি ডলারের নিচে ব্যয় করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধের এই বিশাল ব্যয় এবং সরঞ্জামের ঘাটতি মার্কিন প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
Manual5 Ad Code
বিশেষ করে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম প্রিসিশন-স্ট্রাইক মিসাইল, এটিএসিএমএস গ্রাউন্ড-ভিত্তিক মিসাইল এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যয়বহুল সমরাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে।
এই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় স্বল্প সময়ে এই শূন্যতা পূরণ করা কঠিন বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে গিয়ে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, গোলাবারুদের এই ঘাটতি কেবল যুদ্ধের ময়দানেই নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। এশিয়া ও ইউরোপ থেকে সরঞ্জাম সরিয়ে আনার ফলে ওই অঞ্চলগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Manual8 Ad Code
পেন্টাগন বর্তমানে এই ঘাটতি মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্পকে আরও গতিশীল করার চেষ্টা করছে, তবে বর্তমান চাহিদার তুলনায় তা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। পুরো বিশ্ব এখন নজরে রাখছে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই সামরিক ও আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠে।