মোদি-বিএনপি আমলের প্রথম সীমান্ত বৈঠক ৮ জুন দিল্লিতে
মোদি-বিএনপি আমলের প্রথম সীমান্ত বৈঠক ৮ জুন দিল্লিতে
editor
প্রকাশিত মে ৩১, ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
আগামী ৮ জুন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের দ্বিবার্ষিক সীমান্ত সম্মেলন। চলতি বছরের শুরুতে বাংলাদেশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের সীমান্ত বাহিনীর মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম শীর্ষ স্তরের বৈঠক। ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা পিটিআই এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
Manual8 Ad Code
সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে পিটিআই জানিয়েছে, আগামী ৮ থেকে ১১ জুন দিল্লির একটি বিএসএফ ঘাঁটিতে এই চার দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেবেন। অপরদিকে, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার। আগামী ১১ জুন আলোচনার একটি যৌথ কার্যবিবরণী স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলন শেষ হবে।
সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে, গত বছরের আগস্টে ঢাকায় যখন দুই দেশের সর্বশেষ সীমান্ত বৈঠক হয়েছিল, তখন বাংলাদেশে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্বে ছিল। এরপর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম শীর্ষ কোনো সীমান্ত বৈঠকে বসছে দুই দেশ। ফলে মোদি সরকার ও নবগঠিত বিএনপি সরকারের আমলে দুই বাহিনীর প্রথম এই আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎটিকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
Manual5 Ad Code
আলোচনায় যা থাকছে:
Manual2 Ad Code
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই দেশের সীমান্ত আলোচনার মূল এজেন্ডাগুলো সাধারণত একই থাকলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবারের বৈঠকটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
পিটিআই জানিয়েছে, বিএসএফের পক্ষ থেকে সীমান্ত বেড়া নির্মাণ, ভারতীয় নাগরিক ও বিএসএফ জওয়ানদের ওপর সীমান্ত অপরাধীদের কথিত হামলা, অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনের বিষয়গুলো টেবিলে তোলা হবে। বিশেষ করে, সম্প্রতি ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ঘোষিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট’ (চিহ্নিত করা, বাদ দেওয়া ও বহিষ্কার করা) সংক্রান্ত ত্রি-মুখী নীতি অ্যাকশনের বিষয়টিও এই আলোচনার আবহ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং আকাশসীমা লঙ্ঘন বা ড্রোন অনুপ্রবেশের বিষয়টিও ভারতের এজেন্ডায় থাকতে পারে।
অন্যদিকে, বিজিবির পক্ষ থেকে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের সাথে বাংলাদেশের ৪,০৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি (২,২১৬.৭ কিমি) রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাথে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই সীমান্ত নিয়ে ভারতের নীতি আরও কঠোর হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ইতোমধ্যে সীমান্তে একটি শক্তিশালী কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ-এর কাছে বড় একটি ভূখণ্ড হস্তান্তর করেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২,২১৬ কিমি সীমান্তের মধ্যে ১,৬৪৭.৬৯ কিমি অংশে বেড়া দেওয়া শেষ হলেও এখনো একটি বড় অংশ বেড়াহীন রয়ে গেছে, যার কিছুটা ভৌগোলিক কারণে বেড়া দেওয়ার অনুপযোগী।
Manual8 Ad Code
১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত এই মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকটি প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯৩ সাল থেকে এটি দ্বিবার্ষিক (বছরে দুবার) করা হয়। এরপর থেকে পর্যায়ক্রমে একবার নয়াদিল্লি এবং একবার ঢাকায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুই দেশের সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের জনসাধারণের মধ্যে শান্তি বজায় রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে এবারের বৈঠক থেকে নতুন কোনো যৌথ পদক্ষেপের ঘোষণা আসে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।