আজ সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিবিসির বিশ্লেষণ; শনিবার শুরু হচ্ছে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য

editor
প্রকাশিত জুলাই ৩, ২০২৬, ০৩:০০ অপরাহ্ণ
বিবিসির বিশ্লেষণ; শনিবার শুরু হচ্ছে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছয় দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শনিবার (৪ জুলাই) তেহরানে শুরু হচ্ছে। তার নিহত হওয়ার চার মাসের বেশি সময় পর আয়োজিত এ কর্মসূচিকে ইরানি কর্মকর্তারা ‘শতাব্দীর সবচেয়ে বড় শেষকৃত্য’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।

ইরানি কর্তৃপক্ষের ধারণা, শেষকৃত্যে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নিতে পারেন। এ কারণে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ও লজিস্টিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শোকাহত মানুষের জন্য হাজারো সেবাকেন্দ্র (মাওকিব), ১০ লাখের বেশি মানুষের আবাসনের ব্যবস্থা এবং তেহরানের কেন্দ্রজুড়ে বিশেষ প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ নির্ধারণ করা হয়েছে। পুরো আয়োজনের দায়িত্বে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) তেহরানভিত্তিক মোহাম্মদ রাসুলুল্লাহ কোর।

Manual7 Ad Code

Manual7 Ad Code

ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক ডজন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী, পার্লামেন্টের স্পিকার, মন্ত্রী ও বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এছাড়া প্রায় ৮০০ বিদেশি সাংবাদিক শেষকৃত্য কাভার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদও তেহরানে পৌঁছেছেন।

শেষকৃত্যের প্রতীক হিসেবে মুষ্টিবদ্ধ হাত এবং ‘আমাদের জেগে উঠতেই হবে’ স্লোগান নির্ধারণ করেছে ইরান।

শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। রোববার বিকেল পর্যন্ত সাধারণ মানুষ সেখানে গিয়ে খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন। আইআরজিসির কমান্ডার হাসান হাসানজাদেহ জানান, খামেনির কফিন একটি উঁচু মঞ্চে রাখা হবে এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করা যায়।

কর্মসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার মরদেহ কোম শহরে নেওয়া হবে। সেখানে জামকারান মসজিদে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার মরদেহ ইরাকের নাজাফ ও কারবালায় নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার তা আবার ইরানে ফিরিয়ে এনে জন্মশহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করা হবে।

Manual1 Ad Code

দাফনের পর দেশজুড়ে আরও ৪০ দিন শোক কর্মসূচি চলবে। পাশাপাশি প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী পর্যন্ত বিভিন্ন স্মরণানুষ্ঠানেরও পরিকল্পনা করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকদের মতে, এ শেষকৃত্য শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আয়োজনও। তাদের মতে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাষ্ট্র জাতীয় ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি খামেনি-পরবর্তী নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন জোরদারের চেষ্টা করতে পারে। তবে এত বড় আয়োজন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন দূর করতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে।

এদিকে শেষকৃত্য ঘিরে এখনো দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট নয়। একটি হলো, খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন কি না। অন্যটি হলো, জানাজার নামাজে কে ইমামতি করবেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই দুটি বিষয়ই ইরানের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিতে পারে।

Manual6 Ad Code