ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট
ইরানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশসহ ১৪টি দেশ নিয়ে সৌদি আরবের নতুন প্রতিরক্ষা জোট
editor
প্রকাশিত জুলাই ৩১, ২০২৬, ০৩:২৯ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
লোহিত সাগর, বাব-এল মানদেব প্রণালি এবং এডেন উপসাগরে অবাধ নৌ চলাচল ও বাণিজ্যিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের উদ্যোগে ১৪টি দেশের সমন্বয়ে একটি সামরিক সামুদ্রিক জোট গঠিত হয়েছে। ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামের এই জোটের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ রক্ষা করা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতির বরাতে আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতি চাপে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বাব-এল মানদেব ও লোহিত সাগরের নৌপথে হামলা জোরদার করায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ৫১টি দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিনিধি দলসহ ৪৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সৌদি আরব ছাড়াও এই জোটে স্বাক্ষর করেছে তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিশর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান এবং কমোরোস। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান এতে স্বাক্ষর করেনি। সৌদি আরবকে এই জোটের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সদর দপ্তর হিসেবে ঘোষণা করা হলেও এর সুনির্দিষ্ট স্থান জানানো হয়নি। জোটটির পক্ষ থেকে জানানো হয় যে এটি সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং কারও বিরুদ্ধে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গঠিত হয়নি।
Manual1 Ad Code
নতুন গঠিত এই জোটের সদস্যরা গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, যৌথ সামরিক মহড়া ও সামুদ্রিক পরিচালনা পরিকল্পনা পরিচালনা করবে। ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও সৌদি আরব ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে ইয়ানবু টার্মিনাল ব্যবহার করে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছিল, কিন্তু লোহিত সাগরে হুথিদের সৌদি অবরুদ্ধকরণ ও আক্রমণের কারণে ওই পথও ঝুঁকিতে পড়ে।
Manual7 Ad Code
বিশ্ব বাণিজ্যের ১০ থেকে ১২ শতাংশ এবং প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল চলাচল করে বাব-এল মানদেব প্রণালি দিয়ে, যার সংকীর্ণতা মাত্র ১৮ মাইল। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানির বাজারে নতুন করে সংকট তৈরি করতে পারে। যৌথ দায়িত্বে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হুমকি মোকাবেলার ওপর জোর দিয়ে অন্য দেশগুলোর জন্য জোটের দরজা খোলা রাখা হয়েছে।