হঠাৎ করেই বাংলাদেশ নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। পশ্চিমবঙ্গ সফরের পর এবার তিনি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেন।
Manual4 Ad Code
অজিত দোভালের সঙ্গে সেই আয়োজনে অংশ নেন দেশটির বেশ কয়েকজন কূটনীতিকও।
বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের সেনাপ্রধানের প্রচ্ছন্ন হুশিয়ারির পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর এবং অজিত দোভালের এমন তৎপরতা ফলাও করে প্রচার করছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো। ভারতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর অন্দরমহলে অজিত দোভাল পরিচিত “জেমস বন্ড” হিসেবে। এর আগে পাকিস্তানের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, ৩৭০ ধারা রদ, এবং ক্র্যাকডাউনের মূল হোতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল তাকে। এবার বাংলাদেশ নিয়ে তার এই অতি তৎপরতাকে রহস্যজনক হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
Manual3 Ad Code
অজিত দোভালের প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশন ভারতের কট্টরপন্থী বিজেপি সরকারের সহযোগী হিসেবেই পরিচিত। এমনকি বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদির প্রচারণা চালানোর কাজও করে এই প্রতিষ্ঠান। এবার এই ফাউন্ডেশনটি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর অন্তহীন নিপীড়ন নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে দিল্লিতে। প্রদর্শনীতে যোগ দেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দা ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক এবং গণমাধ্যম কর্মীরা। প্রদর্শনীতে বিভিন্ন তথ্যচিত্রে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের উপর বৈষম্য ও সহিংসতার কথা তুলে ধরা হয়েছে বলে জানাচ্ছে ভারতের গণমাধ্যমগুলো।
Manual5 Ad Code
প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনাতেও অংশ নেন কূটনীতিকরা। সেখানে সংখ্যালঘুদের উপর মানবাধিকার লঙ্ঘন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগও জানানো হয়। শুধু হিন্দুই নয়, বরং বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আহমাদিয়া মতাদর্শে বিশ্বাসীরাও বাংলাদেশে চরম নির্যাতন এবং জোরপূর্বক উচ্ছেদের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তারা। এই প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল সচেতনতা বাড়ানো, পাশাপাশি বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করা।
বাংলাদেশ পরিস্থিতি ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে বলে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি তুলছেন ভারতের রাজনীতিকরা। গত মাসেই পশ্চিমবঙ্গ সফর করেন ভারতের উগ্রপন্থী আরএসএস প্রধান মোহন ভগবত। কিছুদিন আগেই বাংলাদেশে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার উপস্থিতির দাবি তুলে, প্রচ্ছন্ন হুশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী। এরপরেই বাংলাদেশ সীমান্তে সন্ত্রাসীদের তৎপরতার কথা জানিয়ে, পশ্চিমবঙ্গ সহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে মিটিং করেন নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের অপপ্রচার ও মিথ্যা প্রচারণা দিন দিন বেড়ে চলেছে। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকরের এমন অভিযোগের জবাবে ঢাকার তরফ থেকে দিল্লিকে আবারো বার্তা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সংখ্যালঘু ইস্যুকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ভারতের গণমাধ্যমগুলো বিকৃত তথ্য প্রচার করছে।