আজ বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন; নির্বাচিতরা দুটি শপথ নেবেন: আলী রীয়াজ

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন; নির্বাচিতরা দুটি শপথ নেবেন: আলী রীয়াজ

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে বেশিরভাগ ভোটার সম্মতি দেওয়ায় নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুটি শপথ নিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেছেন, “জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন সংবিধান সংস্কার আদেশ ২০২৫-এ টা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, সেটা হচ্ছে—এই যে জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের দ্বারাই সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হবে এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা দুটো শপথ গ্রহণ করবেন।

Manual5 Ad Code

“একটি হচ্ছে জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে এবং আরেকটি হচ্ছে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে।”

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) সকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে জুলাই সনদের সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত ৪৮ দফা বাস্তবায়নে বেশিরভাগ ভোটার সম্মতি দিয়েছেন।

সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদের মেয়াদ হিসেবে ওই আদেশে ১৮০ দিনের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সেই বিবেচনা থেকেই তারা কাজ করবেন। আর নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো এখন একটা জনরায় হয়েছে, যেটা সুস্পষ্টভাবে সুনির্দিষ্টভাবে তারা- জনগণ বলছেন এগুলি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।

“তবে নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলোসহ অন্যান্য অনেক বিষয়ই আছে, যেগুলো যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে যারা নির্বাচিত হয়েছেন এবং যারা অন্যান্য সদস্য এবং দল আছেন আমরা আশা করি যে, তারা যে অঙ্গীকার করেছেন—সেই অঙ্গীকারের ভিত্তিতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশের আলোকে তারা তাদের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।”

তিনি বলেন, “আমরা আশা করি যে, তারা একইভাবে যেমন যেহেতু এক জনরায়ের মধ্য দিয়ে তারা সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা এবং সদস্য পদ লাভ করছেন, সবগুলো দল যাদের প্রতিনিধি তাদের এই দায়িত্ব আছে এবং তারা নিঃসন্দেহে জনরায়ের এই দুটো দিককেই বিবেচনায় নেবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এক সাংবাদিক বলেন, গণভোটের প্রশ্নে উচ্চকক্ষ ছিল সমানুপাতিক (ভোটের হার অনুসারে), কিন্তু যে বিজয়ী রাজনৈতিক দল—তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আছে আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষ।

আলী রীয়াজ বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে দেওয়া মেনিফেস্টোতে যেটা বলা হয়েছে, সেটা হচ্ছে যে—তারা আসন অনুপাতে, এটা তারা জাতীয় ঐক্যমত কমিশনের আলোচনার সময় বলেছেন; এটা একটি রাজনৈতিক দলের অবস্থান এবং মেনিফেস্টো তারা সেই অঙ্গীকার, তারা সেটি তাদের মেনিফেস্টোতে প্রকাশ করেছেন।

“ফলে আমরা যেভাবে বিবেচনা করছি এটা তাদের দলগত অবস্থান। এখন জনরায় তারাও পেয়েছেন, একইসঙ্গে গণভোটেও যেটা বিধৃত হয়েছে, সেটা ভিন্নরকম।”

তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করতে চাই যে রাজনৈতিক দলগুলো বিশেষ করে যেহেতু আপনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কথা উল্লেখ করেছেন। আমাদের মনে রাখতে হবে যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি বিভিন্ন সময় বড় বড় ধরনের সংস্কারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।

“আমি এ বিষয়ে বিশেষভাবে উল্লেখ করতে চাই ১৯৯১ সালের নির্বাচনে যদিও জাতীয়তাবাদী দল সংসদীয় ব্যবস্থার কথা বলেনি; কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া সত্ত্বেও সরকার গঠনের পরেও বাংলাদেশের মানুষের যেহেতু একটা আকাঙ্ক্ষা ছিল যে সংসদীয় ব্যবস্থার প্রত্যাবর্তনে।

“সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রধান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের সরকার এবং সংসদ সে বিষয়ে সংবিধানের সংশোধনী করেছে এবং গণভোটের মধ্য দিয়ে জনসম্মতি নিয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজ বলেন, “আমরা এটাও দেখেছি যে বিভিন্ন সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগের থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী দল তাদের সংস্কারের কর্মসূচি দিয়েছিল অর্থাৎ সংস্কার করার বিষয়ে তাদের অঙ্গীকার সুস্পষ্ট এবং বিএনপি অতীতেও যখন ক্ষমতায় থেকেছে, বড় বড় ধরনের সংস্কার প্রক্রিয়ায় তারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

“আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে সেই জায়গায় তারা এসেছেন, তাদের অবস্থান সংস্কারের পক্ষে। ফলে আমরা আমাদের বিশ্বাস যে, আলাপ-আলোচনার মধ্যে জনরায়ের ভিত্তিতে অন্যান্য দলগুলোর সাথে আলোচনা, জনসমাজের আকাঙ্ক্ষা—সমস্ত কিছু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃবৃন্দ বিবেচনায় নেবেন।”

‘গণভোটের হার গোলমেলে মনে হচ্ছে না’

Manual4 Ad Code

সংসদ নির্বাচনে ভোটের তুলনায় গণভোটের হার বেশি হওয়াকে গোলমেলে মনে হচ্ছে না প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আলী রীয়াজের।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেছেন, সব আসনের ফল প্রকাশিত হলে দুই ভোটের হার সমান বা কাছাকাছি হবে।

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুটো আসনের ফলাফল পরে দেওয়া হবে। আর প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে স্থগিত হওয়া ভোট হবে নতুন তফসিলে।

সংসদ নির্বাচনের যে ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

শেরপুর-৩ আসন বাদে এ নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭২ লাখ ৯৮ হাজার ৪১৬ জন। গণভোটের ফলে দেখা গেছে, ২৯৯ আসনে ভোট দিয়েছেন সাত কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩ জন বা ৬১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

দুই ভোটের হারে পার্থক্য হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে আলী রীয়াজ বলেন, “না, আমাদের কাছে মোটেও গোলমেলে মনে হচ্ছে না। এর পেছনে ইসি (ইলেকশন কমিশন) থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে তা হলো— জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যে হার দেখানো হচ্ছে, সেটি সব আসনের নয়। এখন পর্যন্ত তিনটি আসনের ফলাফল যুক্ত করা হয়নি।

“তাই তিনশ আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আসলে দেখা যাবে যে ভোটের হার জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও বাড়বে, যা সম্ভবত গণভোটের হারের প্রায় সমান বা তার চেয়েও বেশি হতে পারে।

“দ্বিতীয়ত, আমরা দেখেছি অনেকে শুধুমাত্র গণভোটে ভোট দিয়েছেন কিন্তু অন্য নির্বাচনে দেননি। ব্যবধান মাত্র ২ শতাংশের মতো, যা খুব একটা অস্বাভাবিক নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর