পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর; জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ১৭ বছর; জাতীয় শহীদ সেনা দিবস আজ
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
Manual6 Ad Code
আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’। ১৭ বছর আগে এই দিনে সাবেক সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিডিআরের (বর্তমানে বিজিবি) সদর দপ্তর ঢাকার পিলখানায় বিদ্রোহের নামে বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাকিল আহমেদসহ ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা বর্বরোচিত ও নির্মম হত্যার শিকার হন। সাকিল আহমেদের স্ত্রীসহ বেশ কয়েকজন বেসামরিক নাগরিককেও হত্যা করা হয়। পরের দিনও হত্যাযজ্ঞ চলে।
এত বছর পরও এই ঘটনার পরিকল্পনাকারীরা বিচারের আওতায় আসেনি।
আজ বুধবার সকালে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর বনানীতে সামরিক কবরস্থানে শহীদ সেনাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানাতে যাবেন। দিনটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য।
Manual7 Ad Code
গত বছর থেকে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।
এই দিনটি শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণ, দোয়া এবং রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা জানানোর দিন হিসেবে পালন করা হয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড ও জড়িতদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়। তবে অন্তর্বর্তী সরকার কমিশনের প্রতিবেদনে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করলেও তা সমাপ্ত করতে পারেনি।
Manual7 Ad Code
গত সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার রয়েছে।
আমরা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে ফের তদন্ত করব অথবা কমিশন গঠন করে তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেব। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
৫৭ শহীদ সেনা কর্মকর্তার একজন কর্নেল কুদরত-ই-এলাহীর ছেলে ব্যারিস্টার সাকিব রহমান বলেন, শহীদ পরিবারের প্রায় সবাই জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দাবি বর্তমান সরকার যেন কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই বিচার কার্যক্রম শুরু করে।’
প্রধানমন্ত্রীর বাণী : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে জনগণের কাছে পিলখানায় হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য।
জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘২৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ সেনা দিবস। হত্যাযজ্ঞে ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন শহীদ হয়েছিলেন।
২০০৯ সালের পর দিনটি যথাযোগ্য গুরুত্বসহকারে পালন করা হয়নি। ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হওয়ার পর থেকে দিনটি ‘শহীদ সেনা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা সেনা হত্যাযজ্ঞে শহীদদের মাগফিরাত কামনা করছি। তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা প্রকাশ করছি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পিলখানায় সংঘটিত সেনা হত্যাকাণ্ডের বিচার চলমান। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলার অবকাশ নেই। তবে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী তত্পরতা বিদ্যমান ছিল—নাগরিক হিসেবে এই বিষয়টি আমাদের উপলব্ধিতে থাকা জরুরি বলে আমি মনে করি। এই হত্যাকাণ্ডের পর নানা রকম মিথ্যা কিংবা অপতথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনী একটি স্বাধীন দেশের সম্মান, বীরত্ব ও গৌরবের প্রতীক। ভবিষ্যতে আর কেউ যাতে সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে না পারে, আজ পুনরায় সেই শপথে বলীয়ান হতে হবে।