দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে মানুষজনকে ঠেলে পাঠানো বা ‘পুশইন’ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে ভারতের নয়াদিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ‘সীমান্ত সম্মেলন’ শেষ হয়েছে।
সম্মেলনে ‘পুশইন’ বন্ধে বিজিবির আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে বিএসএফ ‘দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দেওয়ার কথা বলেছেন।
শুক্রবার (১২ জুন) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি বলেছে, বিএসএফের মাধ্যমে রোহিঙ্গা বা মিয়ানমারের নাগরিকসহ ভারতীয়দের ‘পুশইনের’ ঘটনায় সম্মেলনে ‘গভীর উদ্বেগ’ প্রকাশ করেছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
এই ‘পুশইনকে’ সীমান্ত বিষয়ক যৌথ নির্দেশিকা, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা, পূর্ববর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে পারস্পরিক সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় নীতি ও প্রটোকলের পরিপন্থি হিসেবে অভিহিত করেছে বিজিবি।
গেল সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ৫৭তম বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের ‘সীমান্ত সম্মেলনে’ বাংলাদেশের ১৪ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক।
অপরদিকে ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীন কুমার।
এর আগে গেল অগাস্টে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ৫৬তম ‘সীমান্ত সম্মেলনেও’ বিজিবির তরফ থেকে ‘পুশইনের’ বিষয়ে ‘উদ্বেগ প্রকাশ’ করা হয়েছিল।
সেবার তৎকালীন বিএসএফ মহাপরিচালক দালজিৎ সিং চৌধুরী ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘পারস্পরিকভাবে সম্মত প্রক্রিয়া’ অনুযায়ী ফেরত পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন।
বিজিবি বলছে, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করছে বিএসএফ। এর পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লির সীমান্ত সম্মেলনে আবারো বিজিবির তরফ থেকে ‘পুশইনের’ বিষয়ে আপত্তি জানানো হল।
বিজিবি মহাপরিচালক বলেছেন, সীমান্তে এসব ‘পুশইন’ হওয়া ব্যক্তিদের দুর্ভোগ অত্যন্ত ব্যাপক। তাদের অনেকেই চরম দুর্দশায় রয়েছেন; কেউ কেউ ক্ষুধা ও রোগে আক্রান্ত, এবং প্রবীণ ব্যক্তিরাও রয়েছেন, যাদের জরুরি চিকিৎসা সেবার প্রয়োজন।
Manual5 Ad Code
কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হলে ‘প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যাবাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে’ দ্রুত গ্রহণের আশ্বাসে ‘প্রচলিত আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ’ করতে বিএসএফকে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সব অনিষ্পন্ন জাতীয়তা যাচাইকরণ বিষয় দ্রুত সম্পন্ন করার এবং তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
Manual5 Ad Code
সম্মেলনে উভয় পক্ষই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ‘গৃহীত পদ্ধতি ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ভিত্তিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিতে সম্মত হয়েছেন।
Manual7 Ad Code
এর বাইরে প্রতিবারের সীমান্ত সম্মেলনের মতো এবারও সীমান্ত হত্যার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বরাবরের মতো এবারো সীমান্ত হত্যা বন্ধে ‘মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমাধান’ খোঁজার কথা বলেছে উভয়পক্ষ।
সম্মেলন চলাকালে বিজিবির মহাপরিচালক সীমান্তে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় নাগরিকদের দ্বারা প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের ফলে নিরস্ত্র ও নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘনের উদাহরণ দিয়ে সীমান্ত এলাকায় হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিএসএফ মহাপরিচালককে ‘কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের’ আহ্বান জানিয়েছেন।
যার পরিপ্রেক্ষিতে এসব বিষয় আন্তরিক, সৎ ও সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে, প্রচলিত আইন অনুসরণ করে এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাধান করতে দুইপক্ষই ‘সম্মত হয়েছেন’ বলেও জানিয়েছে বিজিবি।
এর বাইরে উভয় পক্ষই সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, যৌথ টহল ও সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সম্ভাব্য অবস্থান ও বাংলাদেশবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ভারতের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর