দ্যা ওয়ালকে সাক্ষাৎকার; দেশে ফেরার মুখে দলকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসিনার দাবি, হত্যা, হামলা, মামলা সত্ত্বেও তৈরি নতুন নেতৃত্ব
দ্যা ওয়ালকে সাক্ষাৎকার; দেশে ফেরার মুখে দলকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী হাসিনার দাবি, হত্যা, হামলা, মামলা সত্ত্বেও তৈরি নতুন নেতৃত্ব
editor
প্রকাশিত মে ২৮, ২০২৬, ০৮:০৫ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual7 Ad Code
শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina, President Bangladesh Awami League) জানিয়েছেন, আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিলেও ভোট বৈতরণী পেরতে বিএনপির (BNP-Bangladesh Nationalist Party) বহু প্রার্থী সমর্থন চেয়ে তাঁর দলের নেতাদের হাতে-পায়ে ধরেছিল। জামায়াতে ইসলামিকে আটকাতে অনেক আসনেই আওয়ামী লিগ বিএনপিকে সমর্থন করে। কিন্তু ভোট মিটতেই ফের আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন শুরু হয়েছে।
শেখ হাসিনার দলের বহু নেতা একান্তে মানছেন, তাঁরা আশা করেছিলেন, বিএনপি সরকার গড়লে আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে। বাস্তবে বিএনপি উল্টো পথে হেঁটেছে। আওয়ামী লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে মহম্মদ ইউনুস সরকারের (Md Yunus, former Chief Advisor to the interim government of Bangladesh) জারি করা অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করেছে তারেক রহমানের সরকার। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লিগ সিদ্ধাম্ত নিয়েছে তারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার সহ সকল রাজবন্দির মুক্তির দাবি জানিয়ে যাবে। সরকারের কাছে এ জন্য কোনও আর্জি, আবেদন জানাবে না দল।
Manual7 Ad Code
আরও কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা। দলের উপর নিষেধাজ্ঞা তো আছেই, ফাঁসির সাজা মাথায় নিয়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
হাসিনার এই সাহস ও আত্মবিশ্বাসের কারণ কী? দ্য ওয়াল-কে সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেছেন, রাষ্ট্রযন্ত্রের সব ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন সত্ত্বেও ক্ষমতা হারানোর পর বিগত ২২ মাসে আওয়ামী লিগে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। হাসিনা বলেছেন, এটাই আওয়ামী লিগ। এখানেই বঙ্গবন্ধুর দল অন্য পার্টিগুলির থেকে আলাদা। (Despite all forms of oppression and persecution by the state machinery, new leadership has emerged within the Awami League over the past 22 months since it lost power. Hasina stated, “This is the Awami League. This is precisely where Bangabandhu’s party distinguishes itself from other parties.)
গত বছর নভেম্বরে দ্য ওয়াল-কে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে হাসিনা খানিক আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন, কিছু নেতার জনবিচ্ছিন্নতা দলের ক্ষতি করেছে। এদের আগেই সরিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছিলেন, ঢাকার এলিটরা নয়, আওয়ামী লিগের নতুন নেতৃত্বে আসবেন দলের সব জেলার সেই সব লোকেরা যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে দল ও দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।
Manual5 Ad Code
দ্য ওয়াল-কে দেওয়া দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারে হাসিনা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আরও বলেছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে তাঁর দল যেভাবে লড়াই করছে বাংলাদেশে তার নজির নেই। ঘরোয়া আলোচনায় সব সময় দলকে ঐক্য রক্ষার বার্তা দেওয়া হাসিনা সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আওয়ামী লিগে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র আছে। তাই এই দলে নেতাদের প্রশ্ন, সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। যা বাংলাদেশে অন্য দলে নেই।’ (The Awami League possesses internal democracy. Consequently, leaders within this party are subject to questions and criticism—something that is absent in other political parties in Bangladesh)
আওয়ামী লিগ নেত্রীকে বলা হয়েছিল, নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে বোঝা যায়, আওয়ামী লিগের সমর্থন অনেকটাই অটুট। মাঠে সমর্থনের ফসল আছে। কিন্তু সেই ফসল কেটে ঘরে তোলার জন্য তদারক করার লোকের অভাব। অর্থাৎ উপযুক্ত নেতৃত্ব নেই। আপনি কি এই বিষয়টি নিয়ে কিছু ভেবেছেন?
জবাবে হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লিগ একটি আদর্শভিত্তিক দল। ১৯৪৯ সালে দলটির জন্ম হয়েছিল এই ভূখণ্ডের মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে। এই দলের নেতৃত্বে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে। আওয়ামী লিগ যখনই ক্ষমতায় গিয়েছে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে, দেশের উন্নয়ন করেছে। এদেশের যত অর্জন সবই আওয়ামী লিগের হাত ধরে। শাসন ক্ষমতায় না থাকলেও দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় আওয়ামী লিগ সর্বদা সংগ্রাম জারি রেখেছে। তাই আওয়ামী লিগের প্রতি জনসমর্থন সবসময়ই ছিল।’ (The Awami League is an ideology-based party. The party was founded in 1949 with the objective of securing the rights of the people of this land. It was under the leadership of this party that Bangladesh came into existence. Whenever the Awami League has assumed power, it has worked for the welfare of the people and fostered the nation’s development. Every achievement of this country has been realized through the efforts of the Awami League. Even when not in power, the Awami League has consistently continued its struggle to safeguard the rights of the people. Consequently, the Awami League has always enjoyed public support.)
হাসিনা এরপর বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ এক গভীর সংকটকালীন সময় অতিক্রম করছে। দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। গণতন্ত্রকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দেশে মবের রাজত্ব চলছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা ভয়াবহ, অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করা হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের স্বাভাবিক জীবনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করা হয়েছে। এদেশের কোটি কোটি মানুষ এখন তাই আরও দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে আওয়ামী লিগই তাঁদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়।’
আওয়ামী লিগ নেত্রী বলেন, ‘আমি আগের প্রশ্নের উত্তরে বলেছি, আওয়ামী লিগের নেতৃত্ব দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কাউন্সিলের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়। যারা বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বে এসেছে তারা সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছে। নেতৃত্ব একটি পবিত্র দায়িত্ব। যারা এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হবে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই তাদের সরে যেতে হবে। কর্মীদের আস্থার প্রতিদান দিতে না পারলে নেতৃত্ব মূল্যহীন। যারা দক্ষতার প্রমাণ দেবে, সর্বতোভাবে নেতাকর্মীদের পাশে থাকবে কর্মীরা তাকেই তাঁদের নেতা হিসেবে বেছে নেবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাকে বুঝতে হবে, ৫ অগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশবিরোধী শক্তি রাষ্ট্রযন্ত্রের সকল উপকরণ ব্যবহার করে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী-সমর্থকদের উপর নীরব রাজনৈতিক গণহত্যা চালাচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচী তো দূরের কথা তাঁদের স্বাভাবিক জীবন ধারণের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। দশ হাজার নেতাকর্মী গুম-খুনের শিকার হয়েছেন। দেড় লক্ষ নেতাকর্মীকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এত সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দেশে আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীরাই সকল দেশবিরোধী চক্রান্তের বিরুদ্ধে সোচ্চার আছে, সাধ্যমতো কর্মসূচী পালন করছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সময়ের প্রয়োজনেই অনেক নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে। অতএব আওয়ামী লিগের উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব কখনই হবে না।’
গত বছর নভেম্বরে দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসিনা বলেছিলেন, আওয়ামী লিগের নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনবেন। বিশেষ করে জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের সরিয়ে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির একনিষ্ঠ নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসাবেন। দ্বিতীয় সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেই কাজটি কি শুরু করতে পেরেছেন? আপনার দলের হয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যাঁরা কথা বলেন বা সংবাদমাধ্যমে দলকে প্রতিনিধিত্ব করেন এমন অনেকের প্রতি আওয়ামী লিগের তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের আস্থা, ভরসা নেই। আছে তীব্র অসন্তোষ, ক্ষোভ, অনাস্থা। আপনি কি এই বিষয়ে অবগত এবং কোন পদক্ষেপ করবেন?
Manual4 Ad Code
এই প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লিগের অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী বলেই দলের কর্মী সমর্থকরাও তাঁদের ক্ষোভ, অসন্তোষ বা অভিযোগের কথা বলতে পারে। আপনি বাংলাদেশের অন্য কোনও দলের ক্ষেত্রে এটি পাবেন না। আওয়ামী লিগের সকল সদস্য নিজেদের একটি পরিবারের অংশ মনে করে এবং সে কারণে এটির ভাল-মন্দ নিয়ে নিজেরাই কথা বলে।’ (It is precisely because the Awami League possesses a robust internal democratic structure that the party’s activists and supporters are able to voice their grievances, dissatisfaction, or complaints. You will not find this in any other political party in Bangladesh. All members of the Awami League consider themselves part of a single family; consequently, they themselves openly discuss the party’s strengths and weaknesses)
হাসিনা বলেন, আওয়ামী লিগ গণমানুষের দল। গণমানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা, তাঁদের ভাষা বুঝতে পারা, তাঁদের ভাষায় কথা বলা এই দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর দায়িত্ব। যারা বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্বে এসেছে তারা যোগ্যতা দিয়ে, কর্মীদের অভিপ্রায়ে এসেছে। সেটা ধরে রাখা তাঁদের প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের ব্যাপারে নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে দলীয় কাঠামোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, আওয়ামী লিগ সবসময় সেটি করে এসেছে।
একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা জরুরি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা দলের ভিতরে অন্তঃকোন্দল এবং বিভক্তি তৈরির বিষয়ে সবসময় সচেষ্ট থাকে। প্রতিকূল সময়ে তা আরও বৃদ্ধি পায়। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, দলীয় নেতৃবৃন্দের প্রত্যেকের অবদান, কর্মীদের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ, তাঁদের রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ব্যাপারে আমি সম্পূর্ণরুপে অবগত আছি। যারা দলের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সকল প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কাজ করে যাচ্ছে দলীয়ভাবে তাদেরকেই মূল্যায়ন করা হবে। তথ্য সুএঃ দ্যা ওয়াল