দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর একটি পটুয়াখালীর আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। দুটি ইউনিটে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার এই কেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলেও দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তি নিয়ে জটিলতায় গত বছরের ১১ নভেম্বর থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কয়লা আমদানির টেন্ডার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত না হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়।
এদিকে বৈশ্বিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। এতে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও চাপে পড়েছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্যাস থেকে এবং প্রায় ১৭ শতাংশ তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে আসে। এই দুই উৎসই এখন ব্যয়বহুল ও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটে তুলনামূলক স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ। দেশে এ ধরনের কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সক্ষমতা এখনো অব্যবহৃত রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে গ্রীষ্মকালীন বিদ্যুৎ সংকট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
Manual5 Ad Code
এমন পরিস্থিতিতে আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, অস্থায়ী ব্যবস্থায় ইন্দোনেশিয়া থেকে ১২ লাখ মেট্রিক টন কয়লা আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে একটি কয়লাবাহী জাহাজ পৌঁছেছে, আরও কয়েকটি জাহাজ আসার পথে রয়েছে। এই কয়লা দিয়ে কেন্দ্রটির দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালালে সাড়ে তিন মাসের বেশি সময় উৎপাদন সচল রাখা সম্ভব হবে।
Manual7 Ad Code
পর্যাপ্ত কয়লা মজুত নিশ্চিত করা গেলে চলতি মাসের মধ্যেই কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা যাবে। প্রতিদিন প্রায় ১২ হাজার টন কয়লা ব্যবহার করে কেন্দ্রটি ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম। এককভাবে এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১০ শতাংশ পূরণ করতে পারে।
সংশিষ্টরা বলছেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের সময়ে বিদ্যমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো দ্রুত পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সহজ হবে। আরএনপিএল কেন্দ্র দ্রুত উৎপাদনে ফিরলে সেই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।