আজ রবিবার, ২৮শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাতারের এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে, বড় জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় বাংলাদেশ

editor
প্রকাশিত জুন ২৮, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
কাতারের এলএনজি সরবরাহ অর্ধেকে, বড় জ্বালানি সংকটের শঙ্কায় বাংলাদেশ

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual2 Ad Code

চলতি বছরে বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারে কাতারের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি। এর ফলে দেশের জ্বালানি খাতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সরকারকে পাঠানো এক বার্তায় কাতার এনার্জি জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ফলে চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত ৪০টি এলএনজি কার্গোর পরিবর্তে বাংলাদেশ চলতি বছরে সর্বোচ্চ ২০টি কার্গো পেতে পারে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উৎপাদন পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ পরিস্থিতি অনিশ্চিত থাকবে। এমনকি এই সংকট আগামী তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্তও স্থায়ী হতে পারে বলে কাতার এনার্জি ইঙ্গিত দিয়েছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, কাতার এনার্জি ইতোমধ্যে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে যে, তারা নির্ধারিত সরবরাহের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ দিতে পারবে। বিষয়টি নিয়ে কাতারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং সরবরাহ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬ সালের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশ মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে কাতার এনার্জির অংশ ছিল ৪০টি কার্গো। সরবরাহ অর্ধেকে নেমে এলে দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Manual2 Ad Code

সাম্প্রতিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সময় কাতার এনার্জির উৎপাদন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ ঘোষণা করে। পরে হরমুজ প্রণালীতে অস্থিরতার কারণে এলএনজি পরিবহনও ব্যাহত হয়, যার প্রভাব এখনো কাটেনি।

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কাতারের পাশাপাশি ওমানভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট গ্যাস মার্কেটিংও ফোর্স ম্যাজিউর বহাল রেখেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

Manual3 Ad Code

সরবরাহ ঘাটতি পূরণে সরকার ইতোমধ্যে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্য এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়ার কয়েকটি দেশের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সরবরাহ চুক্তির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। সম্ভাব্য উৎস হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রুনাই, নাইজেরিয়া, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, কাজাখস্তান ও আজারবাইজানের নাম বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সরকারকে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতে হচ্ছে। এতে এলএনজি খাতে সরকারের ভর্তুকির পরিমাণ প্রায় তিন গুণ বেড়ে প্রায় ১৬ হাজার ৬০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মূল বাজেট বরাদ্দের তুলনায় অনেক বেশি।

Manual7 Ad Code

তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ২৪