মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনের কবি সোহেল হাসান গালিবকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহ রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নাকচ করে শুক্রবার এ আদেশ দেন।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আদালতের অপরাধ ও প্রসিকিউশন বিভাগের সাধারণ নিবন্ধন শাখার সাব-ইন্সপেক্টর স্বপন কুমার এতথ্য নিশ্চিত করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ডিবি পুলিশের কোতয়ালি জোনাল টিমের উপ-পরিদর্শক হুমায়ন কবীর তাকে আদালতে হাজির করেন। ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তার ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। কবি সোহেল হাসান গালিবের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত রিমান্ড ও জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠিয়ে আগামি সাত দিনের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
Manual1 Ad Code
আবেদনে বলা হয়, আসামি তার সোহেল হাসান গালিব (Sohel Hasan Galib) নামে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ‘তৌহিদি জনতা’ শিরোনামে একটি কবিতা পোস্ট করেন। যেখানে তিনি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তি করেছেন।
Manual7 Ad Code
মো. সোহেল হাসান গালিবের লেখা ‘আমার খুতবাগুলি’ নামে একটি বই ‘উজান প্রকাশনী’ নামে একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রকাশিত হয়েছে। ওই বইয়ে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার’ মতো কবিতা ছাপা হয়েছে উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, তার লেখা বই শাহবাগ থানাধীন চলমান অমর একুশে বইমেলায় ‘উজান প্রকাশনীর’ স্টলে বিক্রি করা হচ্ছে।
নবী করিম (সা.) এর নামে প্রথমে ফেসবুকে মানহানিকর পোস্ট ও পরে প্রকাশিত বইয়ে এমন কবিতা থাকায় বাংলাদেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে, যা বই মেলাসহ দেশে যে কোন স্থানে দাঙ্গা হওয়ার উপক্রম হয় বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
Manual1 Ad Code
এতে আরও বলা হয়, আসামির ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিপুল সংখ্যক লোক ‘রিপোর্ট’ করায় তা এরইমধ্যে ডিঅ্যাকটিভেট হয়ে গেছে। তার করা অপরাধের বিষয়টি ব্যাপক জনসাধারণের মধ্যে ভাইরাল হওয়ায় তার নিজের সার্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি স্বরূপ হয়। এমতাবস্থায় আসামি কৃত কর্মকাণ্ড ধর্তব্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে তাকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানাধীন সানারপাড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে পরবর্তী সময়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তিনি কোন উদ্দেশ্যে কার প্ররোচণায় এমন অপরাধ কর্ম সম্পাদন করেছেন, জানা সম্ভব হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করে তাকে ১০ দিনের পুলিশ রিমান্ডে চাওয়া হয়।