আজ বুধবার, ২০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

editor
প্রকাশিত মে ২০, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
টিকা সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে বারবার সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

সম্ভাব্য টিকা সংকটের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ। সংস্থাটির দাবি, চিঠি ও বৈঠকের মাধ্যমে বারবার সতর্ক করার পরও টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হওয়ায় দেশে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ হাম প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

Manual8 Ad Code

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইউনিসেফ কার্যালয়ে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

তিনি বলেন, টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্ব দেশের জন্য বড় সংকট তৈরি করেছে। ইউনিসেফ ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি সতর্কতামূলক চিঠি পাঠিয়েছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০টি বৈঠক করেছে।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, আমার সামনে এখন তারিখগুলো নেই। তবে আমি জানি, আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ বা ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছিলাম। শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পাঠানো হয়েছিল, যেন দায়িত্ব গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আমি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে অন্তত ১০ বার বসেছি। আমরা তাদের জানিয়েছি—আমরা উদ্বিগ্ন, সামনে বড় সংকট আসছে।

Manual3 Ad Code

রানা ফ্লাওয়ার্সের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার কারণেই সময়মতো দেশে টিকা পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, ইউনিসেফ বলছে না যে রাজস্ব বাজেটে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল। আমরা বলছি, টিকা ক্রয় প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার সিদ্ধান্তই মূল সমস্যা।

Manual3 Ad Code

তিনি জানান, বাংলাদেশ এমন এক সময়ে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেয়, যখন দেশটি ইতোমধ্যেই সরবরাহ সংকটে ছিল। ইউনিসেফ তখনও সতর্ক করেছিল, উন্মুক্ত দরপত্রের কারণে টিকা পৌঁছাতে আরও দেরি হবে।

Manual7 Ad Code

ফ্লাওয়ার্স বলেন, আপনি ইউনিসেফের মাধ্যমে সংগ্রহ করুন বা উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে করুন—মূল বিষয় হলো টিকাদানের অনেক আগেই টিকা দেশে পৌঁছাতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চলতি বছর বাংলাদেশে ৬০ হাজারের বেশি হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে, যার বেশিরভাগই শিশু। এতে অন্তত ৪৭৫ জন মারা গেছে। গত আড়াই দশকে দেশে এক বছরে এত বেশি হাম সংক্রমণ আর দেখা যায়নি।

তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলেও জানান ইউনিসেফ প্রতিনিধি। তিনি বলেন, সুসংবাদ হলো, ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হাম টিকার আওতায় আনা গেছে। হামের বিস্তার এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

তিনি জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশংসা করেন এবং অভিভাবকদের শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ইউনিসেফ টিকা সংগ্রহ প্রক্রিয়া থেকে কোনও লাভ করে না। এখানে কোনও ধোঁয়াশা নেই, টেবিলের নিচে কোনও আর্থিক লেনদেনও নেই।

তিনি আরও বলেন, টিকার ঘাটতি ও হামজনিত মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের সরকারি সিদ্ধান্তকে ইউনিসেফ স্বাগত জানায় এবং তদন্তে সহযোগিতা করবে। ভবিষ্যতে কীভাবে আরও ভালোভাবে কাজ করা যায়, তা নির্ধারণে এই পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ।