কথা কাটাকাটি থেকে মারধর এবং এক পর্যায়ে দলবল নিয়ে দম্পতির ওপর ধারালো রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপ। রাজধানীর উত্তরায় প্রকাশ্যে রামদা হাতে কোপানোর এমন ঘটনায় সয়লাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এদিকে পরিচয় মিলেছে সাক্ষাৎ মৃত্যুর দুয়ার থেকে বেঁচে যাওয়া ওই দম্পতির নাম।
Manual4 Ad Code
তারা হলেন উত্তরার বাসিন্দা মেহেবুল হাসান ও নাসরিন আকতার ইপ্তি দম্পতি। কাজের সুবাদে তারা উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের বাবার বাড়িতে থাকতেন। বর্তমানে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে কোপের শিকার ওই দম্পতি।
অপরদিকে, ঘটনার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনায় রাতেই (সোমবার) উত্তরা পশ্চিম থানায় বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা তিনজনসহ মোট ১০ জনকে আসামি করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী নাসরিন আকতার ইপ্তি।
Manual3 Ad Code
সর্বশেষ মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতিকে কোপানোয় জড়িত থাকা আলফাজ ওরফে শিশির নামের আরো এক আসামিকে মঙ্গলবার বিকালে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি হাফিজুর রহমান যুগান্তরকে গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আলফাজ ওরফে শিশির ওই মামলার ৩ নম্বর আসামি। এর আগে ঘটনার রাতেই মোবারক ও রবি রায় নামের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে তুলে দেয় স্থানীয়রা।
Manual4 Ad Code
এদিকে, ঘটনার সূত্রপাত সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৯টায়। রাতে মেহেবুল ও ইপ্তি দম্পতি উত্তরার আমির কমপ্লেক্স থেকে মার্কেট করে নিজেদের মোটরসাইকেলে চড়ে উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টর বাবার বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় আসামিরা দুটি মোটরসাইকেলে চড়ে বিকট শব্দে এলোমেলোভাবে সেক্টরের ওই ৯নং রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল এবং একপর্যায়ে তারা একটি যাত্রীবাহী রিকসাকে ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় দলবল নিয়ে ওই দম্পতির ওপর হামলা করে বসে কিশোর গ্রুপের ওই সদস্যরা।
মামলা সূত্রে জানা যায়, কিশোর গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা রিকসায় ধাক্কা দিয়ে উলটো রিকসায় থাকা যাত্রীদেরকে মারধর করে। রিকসাযাত্রীদের সঙ্গে সেসময় চার বছরের একটি শিশুও ছিল। এ নিয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতি প্রতিবাদ করায় মেহেবুলকেও মারধর করে তারা। এসময় লোকজন জড়ো হয়ে অভিযুক্ত কিশোরদের বাইক আটকে থানায় খবর দিলে এরই মধ্যে ৮/১০জনের একটি গ্রুপ রামদা নিয়ে এসে মেহেবুল ও ইপ্তিকে এলোপাতাড়ি কোপায়।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, আরাফাত ও সাইফ নামের দুজন ওই দম্পতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা নিয়ে হামলা করে। এছাড়া আলফাজ, সাইফ, মধু ও শিশির নামের অন্যদেরকে সাইফের ছোট ভাই সজিব ফোন দিয়ে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে ডেকে নিয়ে আসে এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র হাতে তারা মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে রামদা দিয়ে কোপায়। এসময় তাদের চিৎকারে আশপাশের মানুষ জড়ো হলে রামদা হাতে আসা কিশোর গ্রুপের সদস্যরা সেক্টরের রাস্তা ধরে দ্রুত পালিয়ে যায়। তবে স্থানীয়রা কিশোর গ্রুপের সদস্য মোবারক ও রবি রায়কে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
প্রাণে বেঁচে ফেরা সেই রাতের ঘটনার বিষয়ে জানতে ভুক্তভোগী দম্পতি মেহেবুল হাসান ও নাসরিন আকতার ইপ্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে যুগান্তরকে ক্ষুদে বার্তায় তারা জানায়, আমরা এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছি। আশা করছি আমাদের অবস্থা বুঝতে পারছেন।
এদিকে, উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের ৯নং রোডের ওই ঘটনার স্থানটি সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে এ নিয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি কেউ। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বাসিন্দা জানায়, ওরা (কিশোর গ্যাং গ্রুপ) প্রতিনিয়তই রাস্তাঘাটে বিকট শব্দে হর্ণ বাজিয়ে এলাকায় ভীতির সৃষ্টি করে। সন্ধ্যার পর উত্তরা হাই স্কুলের আশপাশের পুরো এলাকা এদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়। এগুলো নিয়ে বলতে গেলে বিপদ।
মেহেবুল-ইপ্তি দম্পতিকে প্রকাশ্যে কোপানোর বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি জানায়, জড়িতদের ধরতে আমাদের অভিযান চলছে। আজকেও একজনকে ধরেছি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত কেউ ছাড় পাবে না। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে।