সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানিয়েছে সরকার। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে একবারে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর না করে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। যার প্রথম ধাপে কেবল মূল বেতন বা বেসিক বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
Manual1 Ad Code
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, চলতি জুলাই মাসের মাঝামাঝি বা শেষ দিকে এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হতে পারে। এরই মধ্যে প্রস্তাবিত ২০টি গ্রেডের নতুন মূল বেতনের একটি রূপরেখাও সামনে এসেছে।
Manual3 Ad Code
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের ধরন নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও রাজনৈতিক নির্দেশনার আলোকেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় একসঙ্গে সব সুবিধা কার্যকর না করে প্রথম দফায় শুধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন গ্রেডে ঠিক কত টাকা বা কত শতাংশ বেতন বাড়ছে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি। বর্তমানে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গেজেট চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
Manual2 Ad Code
এর আগে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেল চালুর বিষয়টি সামনে আনেন। জাতীয় সংসদে দেওয়া ওই বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, আগামী ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর করা হবে। দীর্ঘ প্রায় ১১ বছর ধরে একই কাঠামোতে বেতন পাওয়ায় এবং বর্তমান সময়ের উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে সে সময় জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী।
এদিকে নতুন পে-স্কেলের একটি প্রস্তাবিত রূপরেখা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলে আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। এই কাঠামোতে প্রথম বা সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ধরা হয়েছে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। এরপর দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে যথাক্রমে এক লাখ ৩২ হাজার, এক লাখ ১৩ হাজার, এক লাখ এবং ৮৬ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, প্রস্তাবনায় ষষ্ঠ থেকে দশম গ্রেডের মূল বেতনের কাঠামো যথাক্রমে ৭১ হাজার, ৫৮ হাজার, ৪৭ হাজার ২০০, ৪৫ হাজার ১০০ এবং ৩২ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। একইভাবে ১১তম থেকে ১৫তম গ্রেড পর্যন্ত যথাক্রমে ২৫ হাজার, ২৪ হাজার ৩০০, ২৪ হাজার, ২৩ হাজার ৫০০ এবং ২২ হাজার ৮০০ টাকা মূল বেতন প্রস্তাব করা হয়েছে।
এছাড়া নিচের সারির গ্রেডগুলোর মধ্যে ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার, ১৯তম গ্রেডে ২০ হাজার ৫০০ এবং সর্বনিম্ন বা ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে খসড়া প্রস্তাবে। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়েই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পে-স্কেল বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে।