আজ বৃহস্পতিবার, ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় দাবদাহে গলছে সড়কের পিচ, একই দিনে কুড়িগ্রামে ঘনকুয়াশা

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৩, ২০২৬, ০৬:৩৫ অপরাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় দাবদাহে গলছে সড়কের পিচ, একই দিনে কুড়িগ্রামে ঘনকুয়াশা

Manual2 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

চৈত্র পেরিয়ে বৈশাখ আসার আগেই দাবদাহে পুড়ছে চুয়াডাঙ্গা। জেলাজুড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি তাপপ্রবাহ। একদিকে চুয়াডাঙ্গা তাপদাহে পুড়লেও কুড়িগ্রামের ঘনকুয়াশার দেখা যাওয়ার খবর জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) দেশের দুটি সীমান্তবর্তী এলাকা চুয়াডাঙ্গা ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে আবহাওয়ার এমন বিপরীত রূপ দেখা মিলেছে।

Manual4 Ad Code

চুয়াডাঙ্গা জেলার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলায় মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। জেলায় চলতি মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

তীব্র গরমের কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কের পিচ গলে যেতে দেখা গেছে। বিশেষ করে শহরের পৌরসভার সামনে সড়কের পিচ নরম হয়ে ওঠার দৃশ্য চোখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের পর্যবেক্ষক জাহিদুল হক বলেন, ‘এমন দাবদাহ পরিস্থিতি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আজ এ জেলায় এ মৌসুমে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এদিকে ইত্তেফাকের কুড়িগ্রাম ফুলবাড়ী সংবাদদাতা স্থানীয়দের বরাতে জানিয়েছেন, শুক্রবার ভোরে ঘনকুয়াশায় ঢেকে গেছে সীমান্তঘেষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর জনপদ। সেখানে অন্য বছরগুলোতে সাধারণত চৈত্র মাসে তাপমাত্রা বাড়ে, থাকে কাঠফাটা তীব্র রোদ। তবে এই বছর এর ব্যতিক্রম দেখা গেছে উত্তর জনপদের এ উপজেলায়।

Manual1 Ad Code

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, শীতকালীন মৌসুমে ঘনকুয়াশা দেখা গেলেও চৈত্র মাসে এমন দৃশ্য অস্বাভাবিক। সকালজুড়ে রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠ ও গাছপালা সাদা আস্তরণে ঢেকে যেতে দেখা গেছে। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহ ধরে বিরূপ আবহাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কখনো ঝড়-বৃষ্টি, কখনো মেঘলা আকাশ, আবার কখনো গরম কিংবা হঠাৎ কুয়াশা—সব মিলিয়ে এক অস্থির আবহাওয়া বিরাজ করছে উপজেলাজুড়ে। দুপুরে পর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও কিছুটা ভ্যাপসা গরমে কিছুটা অস্বস্তি দেখা দেয়।

Manual6 Ad Code

উপজেলার কুরুষাফেরুষা এলাকায় কৃষক ধীরেন্দ্র নাথ রায় জানান, চৈত্র মাসে এরকম কুয়াশা আগে দেখিনি। শুক্রবার সকালে যখন কুয়াশা দেখি কিছুটা বিস্মিত হয়েছি।

একই এলাকার কৃষক আবুল হোসেন ও ইউসুফ খন্দকার জানান, চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা দেখিনি। আজকের সকালে না অনেক কুয়াশা দেখা গেছে। গত এক থেকে দেড় সপ্তাহ ধরে সকালে কুয়াশা দেখা গেছে হালকা। এই দুই কৃষক আরও জানান বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে রাতে হালকা শীতের কাপড় ব্যবহার করতে হচ্ছে।

জেলার রাজারহাট উপজেলার কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শুক্রবার সকালে জেলাজুড়ে কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল এটা ঠিক৷ তবে জলীয় বাষ্প দ্রুত ঘনীভূত মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে ভূপৃষ্ঠের কারণে কুয়াশার সম্পর্ক নেই।

Manual4 Ad Code

তিনি আরও জানান, শীত শুরু আগেও এমন কুয়াশা দেখা যায়, আবার শীত বিদায়ের পরও এরকম কুয়াশার দেখা মেলে। এটা অস্বাভাবিক কিছু না। যেহেতু সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে যার কারণে আবহাওয়ার মধ্যে একটা পরিবর্তন হওয়ায় এই ধরনের কুয়াশা দেখা দেয়।সুএ:ইত্তেফাক