আজ শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভা-মিছিল; সাবেক এমপি সনি ও মেয়র মঞ্জুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

editor
প্রকাশিত জুন ৫, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভা-মিছিল; সাবেক এমপি সনি ও মেয়র মঞ্জুরসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ২

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual8 Ad Code

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে মিছিল, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুরসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

Manual1 Ad Code

শুক্রবার (৫ জুন) রাতে ফটিকছড়ি থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জামাল হোসেন। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

Manual5 Ad Code

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নাজিরহাট পৌরসভার পূর্ব সুয়াবিল এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মো. জামান বাবু (২৩) ও একই এলাকার তৌহিদুল আলম মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম সজিব (২৫)।

মামলার প্রধান হুকুমদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর (৬২) ও সাবেক ফটিকছড়ি উপজেলা এমপি খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে (৪০)। এছাড়া অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম (৪০), বখতিয়ার সাঈদ ইরান (৪০), সাবরিনা চৌধুরী (৩৫), জসিম উদ্দিন মুহুরী (৫০), ফোরকান উদ্দিন বাচ্চু (৩৫) এবং মো. জসিম (৩২)।

Manual1 Ad Code

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুন সকাল আনুমানিক ১০টা ৩০ মিনিটে ফটিকছড়ি থানার নিয়মিত টহল দল খবর পায় যে, রোসাংগিরী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমনগর এলাকায় নাজিরহাট-মাইজভাণ্ডার পাকা সড়কের ওপর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মশালসহ একটি মিছিল বের করেছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের সমর্থনে এবং ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এই মিছিল করা হচ্ছিল।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা তাদের হাতে থাকা বাঁশের তৈরি মশাল ফেলে চারদিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া করে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ১ ও ২ নম্বর আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল থেকে ৪টি বাঁশের তৈরি মশাল উদ্ধার ও জব্দ করে।

এজাহারে যা বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা জানান, ৩ থেকে ৬ নম্বর আসামির (সাবেক মেয়র ও সাবেক এমপিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ) প্রত্যক্ষ হুকুম ও তত্ত্বাবধানে তারা রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংসের লক্ষ্যে পরস্পর যোগসাজশে জড়ো হয়ে রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভা ও মিছিলের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ এবং তাদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের মাইজভান্ডার-নাজিরহাট সড়কের পাশে অবস্থিত একটি ভবনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি ‘গোপন বৈঠক’ অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠে। এ সংক্রান্ত ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।তথ্য সুএঃ ঢাকা পোস্ট