বঙ্গবন্ধু ও হাসিনার বই থাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের গাড়ি আটক করল ছাত্রদল
বঙ্গবন্ধু ও হাসিনার বই থাকায় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের গাড়ি আটক করল ছাত্রদল
editor
প্রকাশিত জুন ১০, ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
রাজশাহীতে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকাশিত কিছু বই পাওয়া যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
Manual8 Ad Code
বুধবার (১০ জুন) বেলা ১১টার দিকে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মী লাইব্রেরির গাড়িটি আটক করে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে নিয়ে যান।
পরে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট বইগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের রাজশাহী ইউনিটের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম লিখিত অঙ্গীকারনামায় জানান, দিনের মধ্যেই বইগুলো লাইব্রেরি থেকে অপসারণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এসব বই পাঠকদের জন্য সরবরাহ করা হবে না।
Manual6 Ad Code
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিভিন্ন ধরনের বইয়ের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের সময় প্রকাশিত কিছু বই লাইব্রেরিতে রয়ে গিয়েছিল, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট বইগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলা হবে এবং ভবিষ্যতে সেগুলো আর ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রমে ব্যবহার করা হবে না।
Manual6 Ad Code
দেশজুড়ে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কার্যক্রম। বুধবার রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা গাড়িতে থাকা কিছু বই নিয়ে আপত্তি জানান। পরে মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক (লিমনের) নেতৃত্বে বিষয়টি জেলা প্রশাসকের নজরে আনা হয়।
Manual2 Ad Code
সাংবাদিকরা এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
ডিসি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এমদাদুল হক লিমন বলেন, লাইব্রেরিতে শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগ নেতাদের লেখা বিপুলসংখ্যক বই পাওয়া গেছে। তার দাবি, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও এসব বই পাঠকদের জন্য সংরক্ষিত ছিল, যা নিয়ে তাদের প্রশ্ন রয়েছে।
এসব বই নিষিদ্ধ কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, পূর্বে কিছু এলাকায় এ ধরনের বই সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এবং বিষয়টি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির কার্যক্রম প্রায় এক বছর বন্ধ থাকায় গাড়িটি দীর্ঘদিন প্রধান কার্যালয়ে ছিল। ৫ আগস্টের পর বইগুলো পাঠকদের জন্য প্রদর্শন থেকে সরিয়ে রাখা হলেও সংরক্ষণের আলাদা ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো গাড়িতেই রাখা হয়েছিল। তার ভাষ্য, বইগুলো এমনভাবে রাখা হয়েছিল যাতে সহজে চোখে না পড়ে, তবে কিছু পাঠক সেগুলো বের করে দেখেছিলেন। তিনি বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে আনার জন্য ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।