লাইসেন্স বাতিলের পর এবার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন
লাইসেন্স বাতিলের পর এবার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন
editor
প্রকাশিত জুন ১১, ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ণ
Manual3 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual3 Ad Code
রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। লাইসেন্স বাতিল ঘোষণার পরই হাসপাতাল ঘিরে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর হাসপাতালের প্রতিটি ফটকে বিপুল সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়।
Manual3 Ad Code
এর আগে বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালকে দেওয়া শোকজ নোটিশের জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ার লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালে এক ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত এক তদন্ত কমিটির রিপোর্টে ওয়ার্ডে অক্সিজেন স্বল্পতা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে এ মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল হাবে না, এ মর্মে একটি শোকজ নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নোটিশের জবাব দিতে তাদের ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হলেও আরও ৪৮ ঘণ্টার সময় চেয়ে আবেদন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে গত ৯ জুন শোকজ নোটিশের লিখিত জবাব দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে জবাববে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়, তা কর্তৃপক্ষের কাছে সন্তোষজনক না হওয়ায় The Medical Practice and Private Clinics and Laboratories (Regulation) Ordinance, 1982 এর ১১(২) (খ) ধারা অনুযায়ী আপনার হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা হইল।
Manual3 Ad Code
তবে অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী লাইসেন্স বাতিলের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে আদেশে।
এদিকে লাইসেন্স বাতিলের বিরুদ্ধে আগামী রোববার সরকারের কাছে আপিল করবে বলে জানিয়েছেন আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পক্ষ্যের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
Manual6 Ad Code
এর আগে গত ২৭ মে সকালে হাসপাতালটির পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের মৃত্যু হয়। যাদের প্রত্যেকের বয়স ছিলো এক থেকে ৪ দিনের মধ্যে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি রিপোর্টে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও ওয়ার্ডে অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতি, দীর্ঘক্ষণ এসি বন্ধ থাকা এবং বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা না থাকা, বাতাসে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াই শিশুগুলোর মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করে। প্রতিবেদনটি গত ৪ জুন প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। সেদিনই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে একটি কারণ দর্শনের নোটিশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।