আজ শুক্রবার, ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পদক পেলেন ২৯ গুণী শিল্পী

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পদক পেলেন ২৯ গুণী শিল্পী

Manual2 Ad Code
মোঃ এ.কে.কাওসার, হবিগঞ্জ
হবিগঞ্জে উৎসবমুখর ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বছরভিত্তিক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মনোনীত মোট ২৯ জন গুণী শিল্পী এবং একটি সৃজনশীল সংগঠনকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা পদক ও স্বীকৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. জি কে গউছ এমপি। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিল্প ও সংস্কৃতি একটি জাতির দর্পণ। হবিগঞ্জের এই গুণীজনেরা তাঁদের মেধা ও মনন দিয়ে আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। গুণীজনদের এই স্বীকৃতি আগামী প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতি চর্চায় আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে।”
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. তারেক মাহমুদ, বিশিষ্ট সাহিত্যিক ও গবেষক প্রফেসর জাহান আরা খাতুন এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) হবিগঞ্জের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার ও সম্মাননা পদক বাছাই কমিটির সদস্য সচিব অসিত বরণ দাশ গুপ্ত। আবৃত্তিশিল্পী ও প্রশিক্ষক নাহিদা খান সুর্মির প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত গুণিজনের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর মো. ইলিয়াছ বখত চৌধুরী (জালাল) এবং অধ্যাপক ড. মো. আশ্রাফুল করিম। বক্তারা জেলা শিল্পকলা একাডেমির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং সংস্কৃতির ধারাকে অক্ষুণ্ণ রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বছরভিত্তিক বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন, ২০২০ সালে কণ্ঠসংগীতে মরহুম বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক, নাট্যকলায় অ্যাডভোকেট মো. সফিকুর রহমান চৌধুরী, সৃজনশীল সংগঠক হিসেবে প্রফেসর মো. ইলিয়াছ বখত চৌধুরী (জালাল), সৃজনশীল সংস্কৃতি গবেষক হিসেবে তাহমিনা বেগম গিনি এবং যাত্রাশিল্পে অবনী মোহন দাস।
২০২১ সালে কণ্ঠসংগীতে তাপস কৃষ্ণ মহারত্ন, নাট্যকলায় অ্যাডভোকেট ত্রিলোক কান্তি চৌধুরী, লোকসংস্কৃতিতে অধ্যাপক ড. মো. আশ্রাফুল করিম, যাত্রাশিল্পে মো. জাহির মিয়া এবং আঞ্চলিক সৃজনশীল সংগঠন হিসেবে সুরবিতান ললিতকলা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হবিগঞ্জ।
২০২২ সালে কণ্ঠসংগীতে প্রবোধ সূত্রধর, নাট্যকলায় বাবুল আহমেদ মল্লিক, যাত্রাশিল্পে জনেশ দাশ, চারুকলায় বন্ধুমঙ্গল রায় এবং যন্ত্রসংগীতে হরিপদ দাস।
২০২৩ সালে কণ্ঠসংগীতে সরোজ কান্তি দাস, নাট্যকলায় শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু, নৃত্যকলায় জেসমিন আরা খানম চৌধুরী, চারুকলায় অসীম বণিক এবং যন্ত্রসংগীতে টেনু মিয়া।
২০২৪ সালে কণ্ঠসংগীতে কাজল চন্দ্র গোপ, নাট্যকলায় মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ, চারুকলায় তরুণ কুমার রায়, চলচ্চিত্রে মোক্তাদির ইবনে ছালাম এবং ফটোগ্রাফিতে সৌরভ বিকাশ দেব।
২০২৫ সালে কণ্ঠসংগীতে সৈয়দ আশিকুর রহমান, নাট্যকলায় পার্থ প্রতীম সেন, চারুকলায় মীর কমর উদ্দিন আহমেদ, যন্ত্রসংগীতে সুবীর কান্তি রায় এবং নৃত্যে গৌতম চন্দ্র দাশ সুমন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে পদকপ্রাপ্ত গুণী শিল্পীদের উত্তরীয়, সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ। পদক প্রদান শেষে স্থানীয় ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।