আজ শনিবার, ২রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নাগরিকদের সৌদি আরবসহ ১২ দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিলো যুক্তরাষ্ট্র

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৫, ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে নাগরিকদের সৌদি আরবসহ ১২ দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিলো যুক্তরাষ্ট্র

Manual2 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত অবনতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবসহ অন্তত ১২টি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদে চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশটি ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর সেখান থেকে দেওয়া সতর্ক বার্তায় বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব ইরাক ত্যাগ করা উচিত।

দূতাবাস আরও জানায়, যারা এখনো দেশটিতে অবস্থান করছেন তাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে, কারণ ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীর কারণে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে ওমান থেকেও জরুরি নয় এমন মার্কিন সরকারি কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এদিকে উত্তেজনার পটভূমিতে নতুন করে সামরিক ঘটনার খবরও সামনে এসেছে।

Manual2 Ad Code

শনিবার (১৪ মার্চ) ভোরে ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার দাবি করেছে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দেশটির মধ্যাঞ্চলকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল। জরুরি সেবা সংস্থাগুলোও জানায়, হামলার লক্ষ্য ছিল মধ্য ইসরায়েল। তবে এখন পর্যন্ত এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

Manual1 Ad Code

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ড্রোন হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা বন্দরে আগুন এখনো জ্বলছে বলে জানা গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হামলা ও পাল্টা হামলার খবরও আসছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরানও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, পারস্য উপসাগরের কৌশলগত জলপথ হরমুস প্রণালী তেহরানের ‘শত্রুদের’ জন্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

এর মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন হরমুস প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর জন্য। এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তিনি এখনই ইরানের সঙ্গে কোনো নতুন চুক্তিতে যেতে প্রস্তুত নন। বরং প্রয়োজনে ইরানের কৌশলগত তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে আরও হামলার সম্ভাবনার কথাও ইঙ্গিত করেন তিনি।

ট্রাম্পের এই আহ্বান নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সতর্ক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফরে বিষয়টি আলোচনায় উঠতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকেকে বলেন, পরিস্থিতি দেশটিকে আত্মরক্ষা বাহিনী পাঠানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ফেলতে পারে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুধু ট্রাম্পের আহ্বানেই জাপান তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না; বিষয়টি স্বাধীনভাবে মূল্যায়ন করা হবে।

এদিকে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র কিছু বাধার মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য আকাশপথ ব্যবহারের দুটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সুইজারল্যান্ড সরকার। তাদের ব্যাখ্যা, দেশটির নিরপেক্ষতার আইনে যুদ্ধসংক্রান্ত সামরিক উদ্দেশ্যে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যায় না। তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবহন সংক্রান্ত তিনটি বিমানের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

Manual1 Ad Code

এই উত্তেজনার মধ্যেই ইরাকে সামরিক দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে পেন্টাগন। গত ১২ মার্চ একটি জ্বালানিবাহী বিমান দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন। নিহতরা হলেন- জন আ ক্লিনার, আরিয়ানা জি সাভিনো, অ্যাশলে বি প্রুইট, সেই আর কোভাল, কার্টিস জে আংস্ট এবং টাইলার এইচ সিমন্স। তারা সবাই জ্বালানিবাহী বিমান বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকারের ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনও তদন্তাধীন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

Manual3 Ad Code

এদিকে ইরানের নেতৃত্ব নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অবস্থান নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প বলেন, তিনি জানেন না মোজতবা খামেনি আদৌ জীবিত আছেন কি না। তবে পরে সম্ভাব্য মৃত্যুর খবরকে গুজব বলেও উল্লেখ করেন তিনি।