ইরান চুক্তি করতে চায়, আমি সন্তুষ্ট নই: ট্রাম্প; যুক্তরাষ্ট্র ‘হুমকি দেয়া’ বন্ধ করলে কূটনীতির জন্য প্রস্তুত তেহরান: আরাগচি
ইরান চুক্তি করতে চায়, আমি সন্তুষ্ট নই: ট্রাম্প; যুক্তরাষ্ট্র ‘হুমকি দেয়া’ বন্ধ করলে কূটনীতির জন্য প্রস্তুত তেহরান: আরাগচি
editor
প্রকাশিত মে ২, ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ণ
Manual5 Ad Code
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায়’, কিন্তু তিনি ‘সন্তুষ্ট নন’।
ইরান যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন। তিনি এ-ও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন একটি আলোচনার প্রস্তাব পাঠিয়েছে ইরান।
ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায়। কিন্তু আমি এতে সন্তুষ্ট নই। তাই দেখা যাক কী হয়।’
যুক্তরাষ্ট্র ‘হুমকিমূলক বক্তব্য’ বন্ধ করলে তেহরান কূটনীতির জন্য প্রস্তুত ইরান: আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি’ এবং ‘হুমকিমূলক বক্তব্য’ বন্ধ করলে তেহরান এখনো কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহী।
তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, মিসর, ইরাক এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপে আরাগচি এই মতামত জানিয়েছেন বলে নিজের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন।
পোস্টে বলা হয়, ‘আমেরিকান পক্ষ তাদের সম্প্রসারণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি, হুমকিমূলক বক্তব্য এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করলে ইরান কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করতে প্রস্তুত।’
আরও বলা হয়, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও সম্পূর্ণ সতর্ক রয়েছে এবং যেকোনো হুমকি বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশকে দৃঢ় ও সর্বাত্মকভাবে রক্ষা করতে প্রস্তুত।’
ছয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আরাগচির ফোনালাপ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি আজ শুক্রবার আঞ্চলিক ছয়টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শেষ করার প্রচেষ্টার সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করতে আরাগচি তুরস্ক, মিশর, কাতার, ইরাক, সৌদি আরব ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অচলাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের মাধ্যমে নতুন আলোচনার প্রস্তাব পাঠানোর পর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আরাগচির এ ফোনালাপের খবর জানা গেল।
আব্বাস আরাগচি। ফাইল ছবি/রয়টার্স
এর আগে তাসনিম আরও জানিয়েছিল, আরাগচি ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কাল্লাসের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা ‘সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেছেন’।
ইউরোপীয় কমিশন কাল্লাস ও আরাগচির কথোপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে এবং সিএনএনকে জানিয়েছে, তারা ‘হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা ইরানের ‘স্বাভাবিক অধিকার’: ইরানি কর্মকর্তা
ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলি নিকজাদ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করা ইরানের ‘স্বাভাবিক অধিকার’ এবং এই জলপথ আর কখনোই ‘আগের অবস্থায়’ ফিরে যাবে না বলে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন জাহাজ ও নৌকা। ফাইল ছবি/রয়টার্স
ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিমের খবরে বলা হয়েছে, নিকজাদ বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি কোনো আন্তর্জাতিক জলপথ নয়। এটি ইরানের স্বাভাবিক অধিকার… এবং আমরা এই ন্যায্য অবস্থানে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি।’
যুদ্ধের ব্যয় নিয়ে পেন্টাগন মিথ্যা বলছে: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু যৌথভাবে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তার প্রকৃত অর্থনৈতিক ব্যয় নিয়ে ‘পেন্টাগন মিথ্যা বলছে’ বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি লিখেন, ‘নেতানিয়াহুর এই জুয়ায় এ পর্যন্ত আমেরিকার সরাসরি ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যা সরকারিভাবে দাবি করা অংকের চেয়ে অন্তত চার গুণ বেশি।’
মার্কিন করদাতাদের ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আমেরিকানদের জন্য এই যুদ্ধের পরোক্ষ ব্যয় আরও অনেক বেশি। প্রতিটি মার্কিন পরিবারের ওপর মাসে ৫০০ ডলার করে ঋণের বোঝা চাপছে এবং এটি দ্রুত বাড়ছে। “ইসরায়েল ফার্স্ট” নীতির অর্থ হলো সর্বদা আমেরিকাকে পেছনে রাখা।’
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ‘আত্মরক্ষা’ নয়, বরং আগ্রাসন: ইসমাইল বাঘাই
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে ‘আত্মরক্ষা’ হিসেবে ওয়াশিংটন যে বর্ণনা দিচ্ছে, সেটিকে চ্যালেঞ্জ করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই একে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘আগ্রাসন’ বলে অভিহিত করেছেন।
Manual3 Ad Code
ছবি: তাসনিম নিউজ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের (পররাষ্ট্র দপ্তর) একটি নথি তুলে ধরেন, যেখানে এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা দেওয়া হয়েছে। ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে: ‘যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ইসরায়েলের সম্মিলিত আত্মরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সহজাত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগের অংশ হিসেবে এই সংঘাতে জড়িয়েছে।’
Manual4 Ad Code
এই দাবির বিপরীতে প্রশ্ন তুলে বাঘাই বলেন, ‘কিসের বিরুদ্ধে “আত্মরক্ষা”?’
বাঘাই তার পোস্টে আরও প্রশ্ন করেন, ‘আত্মরক্ষার যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য ইরানের পক্ষ থেকে কি কোনো ‘সশস্ত্র হামলা’ হয়েছিল? অবশ্যই না!’
তিনি বলেন, ‘সুতরাং এটি একেবারেই ‘আত্মরক্ষা’ ছিল না—এটি ছিল ইরান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি আগ্রাসন।’
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
‘দখলকৃত ভূমির প্রতিটি ইঞ্চি পুনরুদ্ধার করব’: লেবাননের প্রধানমন্ত্রী
অধিকৃত লেবাননের ভূখণ্ডের প্রতিটি ইঞ্চি উদ্ধারের অঙ্গীকার করেছেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম।
শ্রম দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সালাম বলেন, তার সরকার ‘জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং এমনভাবে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে কঠোর পরিশ্রম অব্যাহত রাখবে যা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে, স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে এবং দেশকে প্রকৃত পুনরুদ্ধারের পথে পরিচালিত করবে।’
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
ইরানে হামলার নতুন পরিকল্পনা ট্রাম্পের টেবিলে: এক্সিওস
রানে নতুন করে কীভাবে হামলা চালানো যায়, সে বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার। একে সম্ভাব্য ‘চূড়ান্ত’ হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে মার্কিন নিউজ পোর্টাল অ্যাক্সিওস। সংবাদমাধ্যমটির এক প্রতিবেদক জানান, ৪৫ মিনিটের ওই বৈঠকে ট্রাম্পের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরেন ব্র্যাড কুপার এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার (ডানে)। ছবি: এপি
হোয়াইট হাউসের ‘সিচুয়েশন রুমে’ ট্রাম্পের কাছে এই বিকল্পগুলো তুলে ধরেন ব্র্যাড কুপার। ট্রাম্প যদি আবার ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নেন, তবে দেশটিতে একটি ‘সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী’ হামলা চালানোর ছক কষা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ।
ফক্স নিউজ জানিয়েছে, এই হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ইরানের অবশিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, শীর্ষ নেতৃত্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির খবর অনুযায়ী, পেন্টাগন এই হামলায় ‘ডার্ক ঈগল’ নামের একটি নতুন হাইপারসনিক মিসাইলসহ অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা ভাবছে। এ ছাড়া এই অঞ্চলে বি-ওয়ানবি ল্যান্সার বোমারু বিমানের উপস্থিতিও বাড়ানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস, আনাদোলু এজেন্সি
২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাড়ে ৬ হাজার টন সমরাস্ত্র পেল ইসরায়েল
গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েল ৬ হাজার ৫০০ টন মার্কিন গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতি অনুযায়ী, এই চালানের মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার আকাশ ও স্থলপথের গোলাবারুদ, সামরিক ট্রাক, জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল (জেএলটিভি) এবং আরও বিভিন্ন সামরিক সরঞ্জাম।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ‘অপারেশন রোরিং লায়ন শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েল ৪০৩টি এয়ারলিফট এবং ১০টি সিলিফটের মাধ্যমে ১ লাখ ১৫ হাজার ৬০০ টনেরও বেশি সামরিক সরঞ্জাম গ্রহণ করেছে।’
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে ‘যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো হামলা চালায়, তবে মার্কিন অবস্থানগুলোতে ‘দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক’ পাল্টা আঘাত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। বৃহস্পতিবার তেহরান এই হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের অধিকারের দাবি আবারও পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরানের এমন অনড় অবস্থানের ফলে এই জলপথটি পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য একটি জোট গঠনের মার্কিন পরিকল্পনা জটিলতার মুখে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর দুই মাস পার হলেও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি এখনো বন্ধ রয়েছে। এর ফলে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাগুলো বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে। গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরান এখনো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল বন্ধ করে রেখেছে। মূলত ইরানের তেল রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবেই তেহরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর একটি পরিকল্পনা নিয়ে বৃহস্পতিবার ব্রিফিং করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
২০ এপ্রিল ২০২৬, ইরানের তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মাঝে দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির ছবি সংবলিত একটি বিলবোর্ডের পাশ দিয়ে যাচ্ছেন পথচারীরা। ছবি: রয়টার্স
এর আগে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস বুধবার রাতে এই সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করলে তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলারে পৌঁছে যায়। তবে পরবর্তীতে তা ১১৪ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বলেছেন যে, মার্কিন আলোচনার দ্রুত ফলাফল আশা করা যুক্তিসঙ্গত নয়। তার বরাতে বলা হয়েছে, ‘মধ্যস্থতাকারী যেই হোক না কেন, অল্প সময়ের মধ্যে কোনো ফলাফলে পৌঁছানোর আশা করা আমার মতে খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়।’
ইরানের আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রাজধানী তেহরানের কিছু এলাকায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তৎপরতা শোনা গেছে। সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ছোট ড্রোন এবং মনুষ্যবিহীন নজরদারি বিমান প্রতিহত করার চেষ্টা করছিল।
আঞ্চলিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের নাগরিকদের ইরান, লেবানন ও ইরাক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। একই সঙ্গে যারা বর্তমানে ওই দেশগুলোতে অবস্থান করছেন, তাদের অবিলম্বে দেশে ফেরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প আবারও প্রতিশ্রুতি দেন যে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়া মাত্রই জ্বালানি তেলের দাম ‘পাথরের মতো নিচে পড়ে যাবে’।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
ইরানে ‘আসন্ন সামরিক হামলার’ আশঙ্কা মার্কিন সিনেটরের; ব্যাপক প্রাণহানির সতর্কতা
Manual5 Ad Code
যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল ইরানে ‘আসন্ন সামরিক হামলার’ সম্ভাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল বলেন, বিভিন্ন ‘ব্রিফিং’ এবং অন্যান্য সূত্র থেকে তিনি যে ধারণা পেয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে—’একটি আসন্ন সামরিক হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রয়েছে।’
হামলার এই সম্ভাবনাকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে অভিহিত করেছেন ব্লুমেনথাল। তিনি সতর্ক করে বলেন, এর ফলে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সন্তানদের (সেনাসদস্য) জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে’ এবং এর ফলে ‘সম্ভাব্য ব্যাপক প্রাণহানি’ ঘটতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
Manual8 Ad Code
ইরানের সঙ্গে ‘শিগগিরই’ আবারও যুদ্ধ শুরু করতে পারে ইসরায়েল: প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে তেল আবিব ‘শিগগিরই’ ইরানের ওপর আবারও যুদ্ধ শুরু করতে পারে।
ফাইল ছবি: রয়টার্স
বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে কাটজ বলেন, ‘গত এক বছরে ইরান অত্যন্ত ভয়াবহ আঘাত পেয়েছে। এই আঘাতগুলো সব ক্ষেত্রেই বছরের পর বছর ধরে ঝুলে ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সামনে যে চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে তা আরও তীব্র হবে, তবে একই সঙ্গে আঞ্চলিক বাস্তবতা পরিবর্তনের ঐতিহাসিক সুযোগও আমাদের হাতে রয়েছে।’
কাটজ ইঙ্গিত দেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনে প্রচেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এর উদ্দেশ্য হলো—ইরান যেন ‘আগামী প্রজন্মগুলোতে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং মুক্ত বিশ্বের অস্তিত্বের জন্য আর হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়।’
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই
ইরানের সঙ্গে ফের যুদ্ধ ‘হতে পারে’, ইউরোপ থেকে সেনা সরানোর ঘোষণা ট্রাম্পের
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিস থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান ‘চুক্তি করতে চায়’। তবে দুই দেশের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় যুদ্ধ শুরু করবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যে তিনি তা ‘জানেন না’।
এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে সে সম্পর্কে নিশ্চিত কিছু না জানালেও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, একবার এই সংঘাতের সমাধান হয়ে গেলে তেলের দাম কমে আসবে।
জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা কমানোর বিষয়টি নিয়ে কাজ করার কথা জানানোর একদিন পরই ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা প্রত্যাহার করা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত’।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়েও নিজের অবস্থান জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুর্নামেন্টে ইরানের অংশগ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ওকে’।