ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত না করা হলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘গুঁড়িয়ে’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
Manual5 Ad Code
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এ খবর জানিয়েছে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪৪ মিনিটে (জিএমটি ২৩৪৪) দেওয়া ওই পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘এই মুহূর্ত থেকে ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি কোনও হুমকি ছাড়াই হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালাবে এবং সেগুলো নিশ্চিহ্ন করে দেবে। আর এটি শুরু করা হবে দেশটির সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দিয়ে।’
Manual7 Ad Code
ট্রাম্পের দেওয়া এই সময়সীমা অনুযায়ী, সোমবার শেষ হওয়ার আগেই ইরানকে এই পথ উন্মুক্ত করতে হবে। তবে কোন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সবচেয়ে বড় বা কোনটিকে তিনি লক্ষ্যবস্তু করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।
এর আগে পিবিএস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তেহরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা এড়িয়ে চলছেন। কারণ এতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি ও মানসিক বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে বর্তমান এই হুমকিকে ট্রাম্পের বাগাড়ম্বরের একটি বড় ধরনের উত্তরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ট্রাম্পের এই হুমকির জবাব দিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, যদি ইরানের অবকাঠামোতে কোনও ধরনের হামলা চালানো হয়, তবে ইরান ‘শূন্য সহনশীলতা’ প্রদর্শন করবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই এর প্রতিশোধ হিসেবে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ইরান। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিকল্প পথের সন্ধানে হিমশিম খাচ্ছে নির্ভরশীল দেশগুলো।
Manual6 Ad Code
এর আগে শনিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজের জন্য হুমকিস্বরূপ ইরানের একটি অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংস করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা কমাতে এবং মিত্র দেশগুলোকে আশ্বস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনের ২০টিরও বেশি মিত্র দেশ গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।