আজ মঙ্গলবার, ২১শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের দাবিতে আবারও বিভ্রান্তি, ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরসহ একাধিক বক্তব্যে মিথ্যাচার

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২১, ২০২৬, ০৫:১৭ অপরাহ্ণ
ট্রাম্পের দাবিতে আবারও বিভ্রান্তি, ভ্যান্সের পাকিস্তান সফরসহ একাধিক বক্তব্যে মিথ্যাচার

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাকিস্তান সফর নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তা বাস্তবতার সঙ্গে মেলেনি বলে জানা গেছে।

Manual1 Ad Code

সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ভ্যান্স ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের পথে রয়েছেন এবং সেদিন রাতেই ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন।

Manual7 Ad Code

কিন্তু পরে বিষয়টি ভুল প্রমাণিত হয়। ভ্যান্সের সফরসূচি সম্পর্কে অবগত সূত্রগুলো সিএনএন’কে জানায়, তিনি মঙ্গলবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল, বুধবার শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় অংশ নিতে।

এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ভ্যান্সের গাড়িবহর হোয়াইট হাউসে দেখা যাওয়ায় ট্রাম্পের বক্তব্য নিয়ে আরও সন্দেহ তৈরি হয়। অনেকেই এটিকে সাধারণ ভুল হিসেবে দেখলেও সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের ধারাবাহিক ভুল বা বিভ্রান্তিকর মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে।

Manual2 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা এরিক ব্রুয়ার মন্তব্য করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, অতিরঞ্জিত বা ভুল তথ্য দেওয়ার প্রবণতা কূটনৈতিক বিশ্লেষণকে জটিল করে তুলছে।

ইরান-সংক্রান্ত বিষয়েও ট্রাম্পের একাধিক বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক দেখা গেছে। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরান আর কখনো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করবে না। কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো স্থায়ী প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। বরং তারা সীমিত পরিসরে নৌ চলাচলের অনুমতির কথা বলেছিল এবং পরবর্তীতে আবার প্রণালি বন্ধের ঘোষণা দেয়।

Manual3 Ad Code

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও ট্রাম্পের মন্তব্য প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে বাস্তবতা অনুযায়ী দেশটির সামরিক সক্ষমতা এখনো পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে, যদিও বিভিন্ন হামলায় কিছু ক্ষতি হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও ট্রাম্প বড় ধরনের ছাড়ের কথা বলেছেন—যেমন পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করা ও ইউরেনিয়াম হস্তান্তর। কিন্তু ইরানি কর্মকর্তারা এসব দাবিকে অস্বীকার করেছেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ এমনকি অভিযোগ করেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই ট্রাম্প একাধিক ভুল দাবি করেছেন।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষই অতীতে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে ট্রাম্পের বক্তব্য যাচাই না করে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য কোনো চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তাঁর কিছু দাবি সত্য প্রমাণিত হতে পারে, কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন