এসএসসিতে প্রশ্ন-বিভ্রাট; প্রথম দিনে লেজেগোবরে দশা, দ্বিতীয় দিনে ‘অ্যালার্ট’ বোর্ডগুলো
এসএসসিতে প্রশ্ন-বিভ্রাট; প্রথম দিনে লেজেগোবরে দশা, দ্বিতীয় দিনে ‘অ্যালার্ট’ বোর্ডগুলো
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ২৩, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
সারা দেশে শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনে প্রশ্নপত্র বিতরণে চরম অব্যবস্থাপনা ও নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার চিত্র ফুটে উঠেছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুষ্টিয়া ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুল প্রশ্নপত্র, ভুল সেট কোড এবং নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটেছে।
পরীক্ষার্থীদের চরম উদ্বেগের মুখে ফেলে দেওয়া এমন গাফিলতির দায়ে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন কেন্দ্রসচিব ও কক্ষ পরিদর্শককে অব্যাহতি ও বরখাস্ত করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হওয়া চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে বাংলা (আবশ্যিক) ১ম পত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি বোর্ডের অধীনে বাংলা-২ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
Manual8 Ad Code
অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রসচিব ও কক্ষ পরিদর্শকরা কোথাও ভুল সেটের প্রশ্নে পরীক্ষা গ্রহণ, কোথাও সিলেবাস-অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশ্ন বিতরণ, আবার কোথাও নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র অদলবদলের মতো চরম ভুল করেছেন। এতে করে পরীক্ষার্থীরা যেমন ভোগান্তিতে পড়েছে, তেমনি অভিভাবক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
Manual3 Ad Code
পত্রপত্রিকায় অনিয়মের খবর দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট আসেনি। প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করা হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রুনা নাছরীন
সবচেয়ে বড় বিভ্রাটটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে। সেখানে ৩টি কক্ষের ১৭৭ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ভুলবশত ২০২৫ সালের (পুরোনো) সিলেবাসের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা বারবার বিষয়টি জানালেও দায়িত্বরত শিক্ষকরা শুরুতে গুরুত্ব দেননি। প্রায় ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর ভুল ধরা পড়লে নতুন প্রশ্ন সরবরাহ করা হয় এবং ক্ষতি পুষিয়ে দিতে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করা হয়। এই নজিরবিহীন গাফিলতির দায়ে কেন্দ্রসচিবকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রাজধানীর বাড্ডার একরামুন্নেসা বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রেও বড় ধরনের প্রশ্ন বিভ্রাট ঘটেছে। নির্ধারিত ‘১ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে সেখানে ‘৩ নম্বর সেট’-এ পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। এতে বাড্ডা আলাতুন্নেছা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরা উদ্বেগে পড়ে যান। তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড আশ্বস্ত করেছে যে, যে সেটে পরীক্ষা হয়েছে সেই অনুযায়ীই খাতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা হবে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে এখানকার কেন্দ্রসচিবকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাড্ডায় একরামুন্নেসা বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ভুল সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না
বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবির
গাজীপুরের টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে এক অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র সরবরাহ করা হয়। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ভুল বুঝতে পেরে প্রশ্ন ও খাতা ফেরত নিয়ে পুনরায় অনিয়মিতদের নির্ধারিত প্রশ্ন দেওয়া হয়, যা ওই শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক চাপের কারণ হয়। তারা ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন।
এদিকে, কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ১৭ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন দেওয়া হয়। এই অভিযোগে কেন্দ্রসচিব ও দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বার ও পটুয়াখালীর দুমকিতে ‘ওএমআর’ ও ‘এমসিকিউ’ নিয়ে বিপত্তি দেখা দিয়েছে। কুমিল্লার মোহনপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০ জন অনিয়মিত পরীক্ষার্থীকে নিয়মিত সিলেবাসের প্রশ্ন দিয়ে ওএমআর বৃত্ত ভরাট করানো হয়। পরে নতুন প্রশ্ন দিলেও তাদের কোনো অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। পটুয়াখালীর জয়গুন্নেছা কেন্দ্রেও নিয়মিতদের মাঝে পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্ন বিতরণ করায় ওএমআর শিট ও প্রশ্নের অমিল দেখা দেয়।
এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন
এসব ঘটনায় শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকেরা।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোরের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন জানান, একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার সময় নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে অনিয়মিতদের প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ভুল ধরা পড়লে তা সংশোধন করে মূল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
Manual8 Ad Code
তিনি আরও জানান, পরীক্ষার্থীরা পূর্ণ সময় না পেলেও কিছু অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা শেষ করা হয়েছে, তবে পূর্ণাঙ্গ সময় দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড বরিশালের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জি এম শহীদুল ইসলাম জানান, বরিশাল বোর্ডের আওতাধীন কোনো কেন্দ্রে প্রশ্নপত্র বিভ্রাট বা অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের ভুল প্রশ্ন দেওয়ার মতো কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে পটুয়াখালী বা জয়গুন্নেসা কেন্দ্রের বিষয়ে কোনো অভিযোগ, তথ্য বা প্রশাসনিক রিপোর্ট তাদের কাছে আসেনি বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক রুনা নাছরীন জানান, মোহনপুর উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের বিষয়ে পত্রপত্রিকায় অনিয়মের খবর দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট আসেনি। প্রশাসনিক কাঠামোর মাধ্যমে রিপোর্ট পাওয়ার পর বিষয়টি যাচাই করা হবে।
প্রশ্নপত্রে সবচেয়ে বড় ভুল সোনারগাঁয়ে
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের সবচেয়ে বড় ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলায়। সেখানে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মাঝে ভুলবশত গত বছরের (২০২৫ সালের) প্রশ্নপত্র বিতরণের অভিযোগ উঠেছে।
পরীক্ষা শুরুর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিষয়টি ধরা পড়ে, যা কেন্দ্রজুড়ে উদ্বেগ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্নপত্র পরিবর্তন এবং অতিরিক্ত সময় দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
এ বিষয়ে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৭৭ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছিল। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৬ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্র বিতরণের কথা থাকলেও ভুলবশত পরীক্ষার্থীদের হাতে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়।
পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট পর বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে বিষয়টি কেন্দ্রসচিবের নজরে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে জানানো হয়। তার পরামর্শ অনুযায়ী, দ্রুত ২০২৬ সালের সঠিক প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। পরীক্ষার্থীদের নষ্ট হওয়া ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিট সময় পুষিয়ে দিতে অতিরিক্ত সময় প্রদান করে পরীক্ষা শেষ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাতের সই করা ওই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, শিক্ষা বোর্ডের ‘মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’-এর ১৫.৭ (খ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের বর্তমান বছরের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা কেন্দ্রসচিবের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে স্পষ্ট অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রসচিব আব্দুল মতিন সরকারকে পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অবহেলার অভিযোগে সরানো হলো একাধিক শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিবকে
Manual5 Ad Code
এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণের ঘটনায় কেন্দ্রসচিবসহ একাধিক শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবির এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কাঁচপুর-১ কেন্দ্র (কেন্দ্র কোড-৪৯৮)-এর কেন্দ্রসচিব আব্দুল মতিন সরকারকে পরীক্ষাসংক্রান্ত সব ধরনের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে অনুরোধও জানান তিনি।
একই ঘটনায় পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ১১ জন কক্ষ পরিদর্শক শিক্ষককেও পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন– মোশারফ হোসেন, শিউলী আক্তার, ফারজানা হোসেন স্বপ্না, মনোয়ারা বেগম, সুমাইয়া আজাদ, ছানোয়ার বেগম, আব্দুল হামিদ, আনিসুর রহমান, বদরুন নাহার ইভা, মনিরুজ্জামান ও রওনক আরা বেগম। তারা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং ওই কেন্দ্রের একাধিক কক্ষে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন এই কেন্দ্রের জন্য নতুন করে কেন্দ্রসচিবও নিয়োগ দিয়েছে।
এদিকে একই দিনে পৃথক আরেক ঘটনায় রাজধানীর রামপুরা একরামুন্নেসা বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের কেন্দ্রসচিব ও প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমানকেও দায়িত্বে অবহেলার কারণে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
পৃথক চিঠিতে বলা হয়েছে, এসএসসি পরীক্ষা পরিচালনা নীতিমালা-২০২৬ অনুযায়ী কেন্দ্রসচিবের ওপর প্রশ্নপত্র বিতরণসহ সার্বিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব বর্তায়। এক্ষেত্রে অবহেলা গুরুতর অনিয়ম হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
এদিকে রাজধানীর বাড্ডায় একরামুন্নেসা বালক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ভুল সেট কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না বলে জানিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খন্দকার এহসানুল কবির।
তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত। যেহেতু প্রশ্নপত্রটি এই বছরেরই এবং একই বিষয়ের, তাই পরীক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না। আমরা ওই কেন্দ্রের খাতাগুলো আলাদাভাবে মূল্যায়ন করার বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি।
ভুল সেটে পরীক্ষা নেওয়ার দায়ে কেন্দ্রসচিবের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, দায়িত্বে অবহেলার কারণে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিবকে ইতোমধ্যে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা নিশ্চিত করছি, কোনো শিক্ষার্থী যেন এ কারণে মেধাতালিকায় পিছিয়ে না পড়ে বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন দিতে ভুল হলে দায় কেন্দ্রসচিব ও কক্ষপরিদর্শকের : শিক্ষাবোর্ড
চলমান এসএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল প্রশ্নপত্র বিতরণ হলে এর দায়ভার কেন্দ্রসচিব ও কক্ষপরিদর্শকদের ওপর বর্তাবে বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষাবোর্ড।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস এম কামাল উদ্দিন হায়দারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী এসএসসি ২০২৬ পরীক্ষার জন্য দুটি আলাদা সিলেবাসে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হয়েছে। এরমধ্যে অনিয়মিত ও মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থীরা– যারা ২০২৩-২০২৪ সেশন বা তার আগের, তারা ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে অংশ নেবে। অন্যদিকে, নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা– ২০২৪-২০২৫ সেশনের ২০২৬ সালের নির্ধারিত সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেবে।
বোর্ড জানায়, দুই ধরনের পরীক্ষার্থীর জন্য আলাদা প্রশ্নপত্র থাকায় পরীক্ষাকেন্দ্রে সেগুলো সঠিকভাবে বিতরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশ্নপত্র বিতরণের আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সিলেবাস ও প্রশ্নপত্রের কোড ভালোভাবে যাচাই করতে বলা হয়েছে। কোনো ধরনের অসাবধানতা বা ভুল সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রশ্নপত্র বিতরণে কোনো ধরনের ত্রুটি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিব ও কক্ষ পর্যবেক্ষকদের দায়ী করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে এবং পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।
সারা দেশে ১১ বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী
দেশজুড়ে গতকাল মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে ছাত্র ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন এবং ছাত্রী ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় বসছে। গত বছরের তুলনায় পরীক্ষার্থী কমেছে প্রায় ৭১ হাজার ৬২৬ জন। বোর্ডভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ঢাকা বোর্ডে এবং সবচেয়ে কম সিলেট বোর্ডে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবিক বিভাগে সবচেয়ে বেশি ৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বিজ্ঞান বিভাগে রয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৭৬৩ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২ লাখ ২১ হাজার ১৮৪ জন। অধিকাংশ বিভাগেই ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর অংশগ্রহণ বেশি।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন।
সূচি অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষা চলবে আগামী ২০ মে পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরে ৭ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। তথ্য সুএঃ ঢাকা পোস্ট