আজ মঙ্গলবার, ৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মমতার হারে কেমন হবে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক?

editor
প্রকাশিত মে ৫, ২০২৬, ০২:১৬ পূর্বাহ্ণ
মমতার হারে কেমন হবে বাংলাদেশ-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক?

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

দেড় দশক পর পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় ক্ষমতা হারিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার মসনদ দখল করেছে কেন্দ্রীয় ক্ষমতাসীন দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

Manual6 Ad Code

সোমবার (৩ মে) দিবাগত রাত ১টা পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে ২৯৪ আসনের বিধানসভায় ২০৮টি আসনে জয় নিশ্চিত করে বিজেপি। সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৪৮ আসন। অপরদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৮২টি আসন। নিজের আসন ভবানীপুরেও হেরে গেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতের জাতীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের আগ্রহ বরাবরই বেশি। কারণ, দিল্লির সঙ্গে ঢাকার দ্বিপাক্ষিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু জড়িত।

সে কারণে সীমান্তবর্তী পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পরিবর্তন বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে—তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।

Manual6 Ad Code

বিশেষ করে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা, পুশব্যাক, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি—এসব ইস্যুতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এতদিন তিস্তা চুক্তিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তিকে কেন্দ্র করে যে জটিলতা ছিল, এখন সেই অবস্থার পরিবর্তন হয় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল বলেন, “বিধানসভায় পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কীভাবে প্রভাবিত হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ. দুই দেশের মধ্যে কিছু অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে। বিশেষ করে তিস্তা চুক্তিতে এতদিন মমতার বিরোধিতাকে অজুহাত হিসেবে দেখিয়েছে কেন্দ্র। এখন তারা কতটা আন্তরিক, সেটাই দেখার বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশসংক্রান্ত বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বোঝাপড়াই মূল বিষয়। সীমান্তে নতুন করে চাপ বা পুশব্যাকের ঝুঁকিও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Manual4 Ad Code

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। তাই সম্পর্ক নির্ভর করবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণের ওপর। সীমান্ত পরিস্থিতি ইতোমধ্যে উদ্বেগজনক। উভয় পাশেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রভাব বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।”

তিনি মনে করেন, তিস্তা ইস্যুতে শুধু আঞ্চলিক নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সীমান্ত হত্যা ও অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশকে নিজের স্বার্থ আদায়ে আরও দৃঢ় হতে হবে।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “মমতা বিরোধিতা করলেও চাইলে নরেন্দ্র মোদি সরকার তিস্তা ইস্যুতে নতুন উদ্যোগ নিতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিজেপির শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশের ওপর কিছুটা চাপ তৈরি করতে পারে এবং সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে পারে।”

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার এই পরিবর্তন শুধু একটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক ঘটনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নির্ভর করবে পারস্পরিক স্বার্থ, আস্থা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর।

তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন

Manual8 Ad Code